অধ্যায়-১৪
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ জীববিজ্ঞান থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
ক. সবচেয়ে মারাত্মক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি কোনটি?
খ. ওজোন স্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেন?
গ. উদ্দীপকে Q চিহ্নিত অংশটি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. P ও R চিহ্নিত অংশ দুটির মধ্যে কোনটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অধিক ক্ষতিকর? তুলনামূলক আলোচনা করে মতামত দাও।
উত্তর: ক. সবচেয়ে মারাত্মক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি UV-C।
উত্তর: খ. স্ট্রাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে ওজোন স্তর সবচেয়ে মারাত্মক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি UV-C এর পুরো অংশ এবং স্বল্প ক্ষতিকর UV-B। এর বেশির ভাগ অংশই আটকে রাখে। এ ছাড়া ট্রাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে ওজোন স্তর এবং মেঘ UV-B-এর অবশিষ্ট অংশকে ভূপৃষ্ঠে আসা থেকে বিরত রাখে। এ জন্য ওজোন স্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর: গ. উদ্দীপকের Q চিহ্নিত অংশটি হলো শিল্পকারখানা। শিল্পকারখানার ধোঁয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং আরও নানা ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ থাকে। এসব পদার্থ বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়লে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ে। এতে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নিম্নাঞ্চলের দেশসমূহ সমুদ্রের লোনা পানিতে প্লাবিত হবে।
কার্বন মনোক্সাইড রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা বিনষ্ট করে দেয়। সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রিক অক্সাইড বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিলে অ্যাসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে, যা উদ্ভিদ, প্রাণী ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
শিল্পকারখানার বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে পানিকে দূষিত করে। এর ফলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং অনেক মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যায়। ফলে জলজ বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের মুখে পড়ে। সুতরাং দেখা যায় যে উদ্দীপকের Q চিহ্নিত অংশটি (শিল্পকারখানা) পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
উত্তর: ঘ. উদ্দীপকের P চিহ্নিত অংশটি (বৃক্ষনিধন) R চিহ্নিত অংশটি (বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস) থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অধিক ক্ষতিকর। নিচে এর কারণ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
বৃক্ষনিধনের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায় ও অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে বায়ুতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে করে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রতীরের এবং নিম্নাঞ্চলের দেশসমূহ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ওই এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে।
বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণেও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তবে এই ক্ষতি পূরণ করা যায়। কিন্তু বৃক্ষনিধনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা অপূরণীয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে P চিহ্নিত অংশটি (বৃক্ষনিধন) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অধিক ক্ষতিকর।
প্রভাষক, রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা