
শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। সুবিধাটি চালু হলে অভিভাবকেরা সন্তানের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার দূর থেকেই তদারক করতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা ওয়েবসাইট ডব্লিউএবেটাইনফোর তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তি ও প্রতারকদের যোগাযোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। সুবিধাটি বর্তমানে উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই পরীক্ষামূলক সংস্করণ সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।
ডব্লিউএবেটাইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধাটি মূলত ১৮ বছরের কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এতে একটি প্রাথমিক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি সেকেন্ডারি অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী হিসেবে অভিভাবকেরা সন্তানের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে অভিভাবকেরা সন্তানের ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারবেন না। কেবল চ্যাটের কার্যক্রমসংক্রান্ত সারসংক্ষেপ ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সাধারণ তথ্যই তাঁদের কাছে দৃশ্যমান থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানের অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এর ফলে অজানা বা সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ লিংকে প্রবেশ বা অনিরাপদ কথোপকথনের আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুদের অ্যাকাউন্ট থেকে শুধু সংরক্ষিত নম্বরের ব্যক্তিদেরই বার্তা পাঠানো ও কল করার সুযোগ থাকবে। একইভাবে, শুধু পরিচিত ব্যক্তিরাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া সন্তানের প্রোফাইল ছবি, সর্বশেষ অনলাইন অবস্থার তথ্য এবং ‘অ্যাবাউট’ অংশ কারা দেখতে পারবেন, সে বিষয়েও নিয়ন্ত্রণ থাকবে অভিভাবকদের হাতে।
প্রসঙ্গত, হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা বার্তার নিরাপত্তায় ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে বার্তার বিষয়বস্তু হোয়াটসঅ্যাপও দেখতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এই প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালু হলেও শিশুদের আদান-প্রদান করা তথ্যের নিরাপত্তায় এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
সূত্র: নিউজ ১৮