
ফ্রিল্যান্সারদের বিনা মূল্যে পরিচয়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে ‘ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ সময় আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় সহজে যাচাই করা যাবে। নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা, সরকারি–বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। প্ল্যাটফর্মটি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডটি মূলত ডিজিটাল কার্ড। তবে চাইলেই যে কেউ এই কার্ড পাবেন না। এ বিষয়ে ফ্রিলান্সার, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রশাসক কাজী মামুন প্রথম আলোকে জানান, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাওয়ার জন্য অবশ্যই গত এক বছরে ফ্রিল্যান্স কাজ করে ন্যূনতম ৫০ মার্কিন ডলার আয় করতে হবে। এরপর এই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে মার্কেটপ্লেসের প্রোফাইল লিংক/ই-মেইলে ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য/ওয়ার্ক অর্ডার/আয়ের স্ক্রিনশট/ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আর্থিক বিবরণীসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি, ই-মেইল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
ডিজিটাল এই আইডি যাতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে, সে লক্ষ্যে শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠাবে আইসিটি বিভাগ। এর ফলে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে এই ডিজিটাল আইডি দিয়েই ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের আয়ের স্বীকৃতি ও ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।