এই গ্যারেজকে বলা হয় সিলিকন ভ্যালির জন্মস্থান, এখানেই ১৯৩৮ সালে ‘এইচপি’ শুরু করেছিলেন বিল হিউলেট ও ডেভিড প্যাকার্ড
এই গ্যারেজকে বলা হয় সিলিকন ভ্যালির জন্মস্থান, এখানেই ১৯৩৮ সালে ‘এইচপি’ শুরু করেছিলেন বিল হিউলেট ও ডেভিড প্যাকার্ড

গ্যারেজ থেকে শুরু করে বিশ্বজয় করেছে সিলিকন ভ্যালির যেসব কোম্পানি

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা আছে। বড় কিছু শুরু করতে হলে একটি গ্যারেজ থাকা চাই। অ্যাপল থেকে গুগল, মাইক্রোসফট থেকে আমাজনের মতো আজকের বিলিয়ন ডলারের অনেক কোম্পানির শুরুটা হয়েছিল খুবই সাধারণ পরিবেশে। অনেকের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের গ্যারেজের গল্প এখন কিংবদন্তি।

অ্যাপল

১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার লস আল্টোসের একটি বাড়ির গ্যারেজে স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওজনিয়াক অ্যাপলের যাত্রা শুরু করেন। এই বাড়িটি ছিল জবসের ছোটবেলার ঘর। ২০১৩ সালে লস আল্টোস ঐতিহাসিক কমিশন বাড়িটিকে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। যদিও ওজনিয়াক পরে কিছুটা রসিকতা করে বলেছিলেন, গ্যারেজে বসে তাঁরা পণ্য ডিজাইন বা উৎপাদনের কাজ খুব একটা করেননি, তবে আইডিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য এটিই ছিল তাঁদের মূল আস্তানা। আজ সেই সাধারণ গ্যারেজ থেকেই জন্ম নেওয়া অ্যাপল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির একটি।

গুগল

১৯৯৮ সালে ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন মেনলো পার্কে একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে গুগলের কাজ শুরু করেন। মজার ব্যাপার হলো, ওই বাড়ির মালিক ছিলেন সুসান ওজস্কি, যিনি ২০১৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইউটিউবের প্রধান ছিলেন। তখন তিনি হবু দুই বিলিয়নিয়ারকে প্রতি মাসে ১ হাজার ৭০০ ডলারে গ্যারেজটি ভাড়া দিয়েছিলেন। বর্তমানে গুগল ওই পুরো বাড়িটির মালিক। ২০১৮ সালে তাদের ২০তম বার্ষিকীতে ভক্তদের জন্য গ্যারেজটিকে ভার্চ্যুয়ালি দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল।

এইচপি

পালো আল্টোর একটি গ্যারেজকে বলা হয় সিলিকন ভ্যালির জন্মস্থান। ১৯৩৮ সালে বিল হিউলেট এবং ডেভিড প্যাকার্ড এইচপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা সেখানে একটি অডিও অসিলেটর তৈরি করেছিলেন, যা ডিজনির ফ্যান্টাসিয়া চলচ্চিত্রের জন্য বিক্রি করে তাঁরা প্রথম বড় সাফল্যের মুখ দেখেন। ১৯৮৭ সালে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ২০০০ সালে এইচপি ১.৭ মিলিয়ন ডলারে সম্পত্তিটি কিনে নেয়।

মাইক্রোসফট

বিল গেটস এবং পল অ্যালেন নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কের একটি গ্যারেজে মাইক্রোসফটের শুরুর সময় কাটিয়েছেন। তবে তাঁদের কাজের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছিল সানডাউনার মোটেলে, সেখানেই তাঁরা বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের একটি সংস্করণ লিখেছিলেন। ২০১৩ সালে ওই মোটেলটিকে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনে রূপান্তর করা হয়েছে। যদিও সদর দপ্তর পরে ওয়াশিংটনে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তাঁদের লড়াইয়ের শুরুটা ছিল এই সাধারণ গ্যারেজেই।

অ্যামাজন

জেফ বেজোস ১৯৯৫ সালে ওয়াশিংটনের বেলভিউতে একটি ভাড়া করা বাড়ি থেকে অ্যামাজনের যাত্রা শুরু করেন। মজার বিষয় হলো, বেজোস এই বাড়ি বেছে নিয়েছিলেন; কারণ, এতে একটি গ্যারেজ ছিল। তিনি চেয়েছিলেন এইচপি বা অন্য বড় কোম্পানিগুলোর মতো তাঁরও একটি গ্যারেজ স্টোরি থাকুক। বেজোস এবং তাঁর তৎকালীন স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি মাত্র ৮৯০ ডলারে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়িটি পরে দেড় মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। যদিও বাড়িটি সংস্কার করা হয়েছে, তবে সেই মেইলবক্স আজও রয়ে গেছে, যেখানে বেজোস প্রথম বইয়ের ক্যাটালগ গ্রহণ করতেন।

সূত্র: বিজনেজ ইনসাইডার