পৃথিবী
পৃথিবী

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে শনাক্ত করা রহস্যময় সংকেত আসলে কী

মহাবিশ্বের বেশির ভাগ অংশজুড়ে রয়েছে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার। খালি চোখে দেখা না গেলেও এর অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে। এবার জাপানের একদল বিজ্ঞানী পুরো পৃথিবীকে একটি বিশাল ডিটেক্টর বা সংবেদনশীল যন্ত্রে রূপান্তর করে এই অদৃশ্য বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন। প্রোগ্রেস অব থিওরিটিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিকস এবং ফিজিক্যাল রিভিউ ডি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণা ফলাফল।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে এমন কিছু সংকেত পাওয়া গেছে, যা হাইপোথেটিক্যাল বা কাল্পনিক কণার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ডার্ক ম্যাটারের অন্যতম প্রধান সম্ভাব্য কণা হিসেবে অ্যাক্সিয়নকে বিবেচনা করা হয়। সত্তরের দশকে কণা পদার্থবিদ্যার একটি সমস্যার সমাধানের জন্য এই কণার ধারণা দেওয়া হয়েছিল। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রে অ্যাক্সিয়ন কণা ফোটনে রূপান্তরিত হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। মহাকাশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা এবার ঘরের কাছে পৃথিবীতেই এর সন্ধান শুরু করেছেন।

বিজ্ঞানী আৎসিশি তরুয়া জানান, পৃথিবীর পৃষ্ঠ এবং আয়নোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী স্থানটি একটি প্রাকৃতিক রেজোনেটর হিসেবে কাজ করে। এটি নির্দিষ্ট ভরের তড়িৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গকে বিবর্ধিত করতে পারে। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে থেকে সংগৃহীত ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সংকেত শনাক্ত করেছেন। সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দেওয়ার পরও বিজ্ঞানীদের হাতে বেশ কিছু সম্ভাব্য সংকেত রয়ে যায়। অ্যাক্সিয়ন কণার পাশাপাশি ডার্ক ফোটন নামক আরেকটি অদৃশ্য কণার অস্তিত্ব নিয়েও পরীক্ষা চালানো হয়। তবে বর্তমান ডেটার মাধ্যমে অ্যাক্সিয়ন এবং ডার্ক ফোটনের সংকেত আলাদা করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের তারতম্য পরীক্ষা করে ভবিষ্যতে এই দুই কণার পার্থক্য নিশ্চিত করা যাবে। তবে যুক্তরাজ্যের একটি মাত্র অবজারভেটরির তথ্য ব্যবহার করায় তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক তুলনা করা সম্ভব হয়নি। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে পাওয়া এই অদ্ভুত সংকেত মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণা এই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করবে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট