আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আবারও ফাটল, নভোচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে এখন পর্যন্ত মানুষের টিকে থাকার একমাত্র বৈজ্ঞানিক আশ্রয়স্থল হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। তবে বিশালাকার গবেষণাগারটির একটি স্থানে আবারও ফাটল দেখা দেওয়ায় ভেতরে থাকা বাতাস আশঙ্কাজনকভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে। মহাকাশ স্টেশন থেকে অনবরত বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে থাকা নভোচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত রাশিয়ার মডিউল থেকে আবারও বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে মডিউলটিতে বারবার একই ধরনের ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। গত ১ মে শনাক্ত হওয়া নতুন এ ত্রুটির কারণে মহাকাশ স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড পরিমাণ বাতাস মহাশূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে। এই বাতাসের ওজন সাধারণ একটি পাউরুটির ওজনের সমান। ত্রুটি শনাক্তের পর মডিউলটিকে বর্তমানে তুলনামূলক কম চাপে রাখা হয়েছে। এই ত্রুটির কারণে মহাকাশ স্টেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে এই ত্রুটি মহাকাশ স্টেশনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনে মোট সাতজন নভোচারী অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে নাসার তিনজন, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার একজন এবং রাশিয়ার তিনজন নভোচারী রয়েছেন। নাসা জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য সবাই যৌথভাবে কাজ করছেন। এই মুহূর্তে নভোচারীদের জন্য তাৎক্ষণিক বিপদে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায়, তবে নভোচারীদের স্টেশন থেকে জরুরিভাবে নিয়ে আসার জন্য নাসা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটিকে ২০৩০ সালে অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নাসার তথ্যমতে, স্পেসএক্সের তৈরি একটি ডিঅরবিট যানের সাহায্যে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রিতভাবে পুনঃপ্রবেশ করিয়ে ধ্বংস করা হবে স্টেশনটি।

সূত্র: ডেইলি মেইল