হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলার জেরে জাতিসংঘ পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার অভিযান স্থগিত করায় এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম একপর্যায়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গ্রিনিচ মান সময় রাত দুইটার দিকে আগস্টে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৪ ডলার ৮৯ সেন্টে পৌঁছায়। এর আগে দাম নেমে এসেছিল ৭২ ডলার ৪৮ সেন্টে।

গত সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর তেলের দাম দ্রুত কমে গিয়েছিল। তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় ব্রেন্টের দাম এখন যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।

নতুন উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। আজ শুক্রবার লেনদেন শুরুর পর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও তাইওয়ানের প্রধান সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়।

টোকিওর নিক্কেই-২২৫ ও সিউলের কসপি সূচক সকালেই ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক প্রায় ১ শতাংশ ও হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।

বিশ্বে স্বাভাবিক সময়ে ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সইয়ের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়তে শুরু করে। ফলে জ্বালানি খাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার আশা তৈরি হয়েছিল। নতুন হামলায় সেই আশা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিক ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার প্রণালিটি দিয়ে ৭০টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিনের তুলনায় এটি দ্বিগুণের বেশি এবং গত ১ মার্চের পর এক দিনে সর্বোচ্চ।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডান পাশে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে আসা একটি বস্তু’ আঘাত হানে।

নিউইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজ, রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হামলাটি ইরান চালিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।