
ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলের লালিবেলা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দেশটির বিদ্রোহী সংগঠন তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ)। শহরটিতে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। ফলে লালিবেলার এই স্থাপনাও এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। খবর বিবিসির।
লালিবেলা শহরে মধ্যযুগীয় ১১টি একশিলা গির্জা রয়েছে। অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের কাছে এই গির্জা পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৮ সালে এই গির্জাগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।
ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে টিপিএলএফের দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলছে। টিপিএলএফের সদস্যদের যে লালিবেলা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন, তা নিশ্চিত করেছেন শহরটির ডেপুটি মেয়র মানদেফ্রো তাদেসে। তিনি বলেন, সেখান কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। তবে বাসিন্দারা শহরটি থেকে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাচ্ছে।
শহরের ঐতিহাসিক গির্জাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন লালিবেলার ডেপুটি মেয়র। তিনি বলেন, গির্জাগুলো বিশ্ব ঐতিহ্য। এই সম্পদের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সহযোগিতা দরকার।
লালিবেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ব্যাপারে শ্রদ্ধা দেখাতে তাইগ্রে বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তা ছাড়া ইথিওপিয়ায় চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ছে।
টিপিএলএফ গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত তাইগ্রের আঞ্চলিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় ছিল। ওই মাসে দেশটির সরকারি বাহিনী টিপিএলএফকে ক্ষমতাচ্যুত করে। টিপিএলএফকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের তকমা দেয় ইথিওপিয়া সরকার।
তবে সরকারের অভিযোগ নাকচ করে টিপিএলএফ জানায়, আইনসম্মতভাবে তাইগ্রেতে সরকার পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে।
নভেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর টিপিএলএফ ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। তাইগ্রে ছাড়িয়ে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী আমহারা ও আফার অঞ্চলে। দুই পক্ষের সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
টিপিএলএফ এবং সরকারি বাহিনী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে।