মিয়ানমারে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ের ভোট গ্রহণ হয়
মিয়ানমারে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ের ভোট গ্রহণ হয়

মিয়ানমারে চূড়ান্ত ধাপের ভোট গ্রহণ চলছে, এগিয়ে সেনা–সমর্থিত দল

দেশজুড়ে সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপের ভোট গ্রহণ আজ রোববার শুরু হয়েছে। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ ৬০টি উপশহরে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।

মিয়ানমারে ব্যাপকভাবে বিতর্কিত নির্বাচন যে পথে এগোচ্ছে, তাতে সেনা–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বড় ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছে। নির্বাচন শেষে জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং রাজনৈতিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে আগের দুটি ধাপের ভোট গ্রহণ হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি। এতে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৫ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। ওই দুই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল গড়ে ৭০ শতাংশ।

জাতিসংঘ, কয়েকটি পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এটিকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ নির্বাচন মিয়ানমারে সামরিক শাসনকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।

তবে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, তারা খুব সম্ভবত আগামী এপ্রিলে একটি নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির দলের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির ক্ষমতা দখল করে।

৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বর্তমানে কারাগারে বন্দী। জান্তা সরকার অন্যান্য বিরোধী দলের মতো সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। ফলে মিয়ানমারের রাজনীতির মাঠ সেনা-সমর্থিত দলের অনুকূলে চলে গেছে।

গত বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সভাপতিত্ব করা মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, আসিয়ানের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে না এবং তারা এই নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানাবে না।

তথ্য বিশ্লেষক ও কৌশলগত ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের এশিয়া–বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক কাহো ইয়ু বলেন, এই নির্বাচন পাঁচ বছর ধরে চলমান সংকট সমাধানের বদলে সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তপোক্তভাবে ক্ষমতার মসনদে বসাবে।

নির্বাচনী প্রচারণা এবং আগের ধাপের ভোট চলাকালে মিয়ানমারের অনেক অঞ্চলে লড়াই চলেছে। রাখাইন ও শান রাজ্যের বেসামরিক এলাকার আশপাশে বিমান হামলাও হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সেনা-সমর্থিত দল ইউএসডিপি দুই ধাপের ভোটে নিম্নকক্ষে ২০৩টি আসনের মধ্যে ১৯৩টিতে জয়ী হয়েছে। আর উচ্চকক্ষে ৭৮টি আসনের মধ্যে পেয়েছে ৫২টি, যা দলটিকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে।

২০১০ সালে ইউএসডিপি গঠিত হয়। দলটি পূর্ববর্তী সামরিক সরকারের অবসানের পর পাঁচ বছর দেশ শাসন করেছিল। একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক উচ্চপদস্থ অনেক সেনা কর্মকর্তা দলটিতে রয়েছেন।