ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর আগুন জ্বলছে তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনে
ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর আগুন জ্বলছে তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনে

ইরানে হামলা নিয়ে ‘তথ্যের ঘাটতি’তে জাপান আছে চুপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা জাপানের পুঁজিবাজারে লাগলেও জাপান সরকার মনে হয় এখনো দোলাচল কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো যৌথ হামলা এবং সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জাপান সরকারের পক্ষ থেকে দেখানো হয়নি। বিস্তারিত তথ্যের ঘাটতির কথা বলছে সরকার।

তবে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আজ মঙ্গলবার সংসদের একটি কমিটির অধিবেশনে বলেছেন যে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি খোলামেলা আলোচনা করবেন। ১৯ মার্চ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তাকাইচির সাক্ষাৎসূচি নির্ধারিত রয়েছে।

গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ অভিযান শুরু করে ইসরায়েলে। বিমান হামলায় ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর পরদিন নিশ্চিত করে তেহরান সরকার। এরপর ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। তাতে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন পুঁজিবাজারের সঙ্গে জাপানের বাজারেও দরপতন ঘটে।

ইরানে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করা থেকে জাপান সরকার বিরত আছে। বিস্তারিত তথ্যের ঘাটতির কথা জাপান সরকার বললেও কয়েকটি দেশ ইরানের চালানো হামলার নিন্দা করেছে। এমন হামলা বন্ধে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে টোকিও বলছে, ইরানের উচিত হবে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা।

জাপানের জ্বালানি তেলের সরবরাহের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আসে বলে সেই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা জাপানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বিশাল চাহিদা বিবেচনা করে ইরানের সঙ্গেও জাপান সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ হওয়ায় এবং দেশের নিরাপত্তা সংহত রাখার জন্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দুয়ার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুলে দেওয়ার কারণে ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়াটা টোকিওর জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। দৃশ্যত এ কারণেই ওয়াশিংটনে আসন্ন সফরের আগে হামলা নিয়ে কোনো রকম মন্তব্য করে বিপাকে পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া থেকে জাপান সরকার এড়িয়ে যেতে চাইছে।

জাপানের বিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দল হামলার সমালোচনা করলেও বলিষ্ঠ কোনো বক্তব্য এখনো এদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। জাপানের নাগরিক সম্প্রচার কেন্দ্র এনএইচকের টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন উদার গণতন্ত্রী দল এলডিপির মহাসচিব শুনইচি সুজুকি ইরানে হামলা নিয়ে মন্তব্য করা সংগত হবে না বলার পর সেই অনুষ্ঠানে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে তাঁকে পড়তে হয়। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা যুক্তি দেখিয়েছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে যুদ্ধের কারণে জাপানের বিভিন্ন জাহাজ চলাচল কোম্পানি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার নির্দেশ তাদের তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে দিয়েছে। জাপান সরকারের চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ার পর ট্যাঙ্কার পরিচালনা কোম্পানিগুলো সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও কিছুদিনের মধ্যে জাপানে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।