হাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পর বিজয় ভাষণ দিচ্ছেন পিটার মাজিয়ার
হাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পর বিজয় ভাষণ দিচ্ছেন পিটার মাজিয়ার

পুতিন বা ট্রাম্প, কাউকেই ফোন করবেন না হাঙ্গেরির পিটার মাজিয়ার

নির্বাচনে নিজ দলের বড় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এরই মধ্যে ইউরোপের ১০ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন হাঙ্গেরির পিটার মাজিয়ার। কিন্তু এখনো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি।

হাঙ্গেরিতে সর্বশেষ নির্বাচনে পিটার মাজিয়ারের দল তিসজা পার্টি বড় জয় পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশটিতে পুতিন–ঘনিষ্ঠ ভিক্টর অরবানের দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান হয়েছে।

ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে কথা হলেও মাজিয়ার বলেছেন, তিনি পুতিনকে ফোন করবেন না। তবে পুতিন যদি তাঁকে ফোন করেন, কথা বলবেন।

দলের বড় জয়ের পর গত রোববার দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন মাজিয়ার। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের জবাব দেন। মাজিয়ার বলেন, ‘যদি ভ্লাদিমির পুতিন ফোন করেন, আমি ফোন ধরব।’

তবে পুতিন তাঁকে ফোন করবেন না বলেও বিশ্বাস মাজিয়ারের। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এটা হবে। তবে যদি আমাদের কথা হয়, আমি তাঁকে বলব—চার বছর পার হয়েছে, দয়া করে এবার এ হত্যাকাণ্ড (ইউক্রেন যুদ্ধ) বন্ধ করুন, এ যুদ্ধ শেষ করুন।’

অরবান শুধু পুতিনের নন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ট্রাম্প সরাসরি অরবানের প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে গত সপ্তাহে অরবানের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিতে হাঙ্গেরি পাঠিয়েছিলেন।

এত কিছুর পরও রোববারের নির্বাচনে অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজের ভরাডুবি হয়েছে।

মাজিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এমনকি ট্রাম্পকেও ফোন করবেন না। কিন্তু যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে ফোন করেন, তিনি তাঁকে বলবেন, তাঁরা ‘ন্যাটোর শক্তিশালী মিত্র’ হওয়ায় তিনি খুব খুশি এবং তাঁকে আগামী অক্টোবরে সোভিয়েত দখলদারির বিরুদ্ধে হাঙ্গেরীয় বিদ্রোহের ৭০তম বার্ষিকীতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি।

মাজিয়ার একসময় অরবানের ফিদেজ পার্টির ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। পরে সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

সর্বশেষ প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মাজিয়ারের তিসজা পার্টি ১৩৬টি আসন পেয়েছে, আগে ১৩৮টি আসন পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। দুটি আসন কমে গেলেও দলটি এখনো ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের ‘সুপার মেজরিটি’ ধরে রেখেছে, যা দলটিকে সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা দেবে।

এখনো ৪ লাখ ভোটের গণনা বাকি আছে। মাজিয়ারের বিশ্বাস, তাঁর দল আরও কয়েকটি আসন পাবে।