ইউক্রেনের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে কিরিলো বুদানভের নাম ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুদানভ এত দিন সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর (জিইউআর) প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০ দফার শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মধ্যেই নতুন চিফ অব স্টাফের নাম জানালেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়বলি এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নয়নে এখন ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। সেই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথও এগিয়ে নিতে হবে। রাষ্ট্রের এসব দায়িত্ব বাস্তবায়নে কাজ করবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর।’
নতুন চিফ অব স্টাফের বিষয়ে জেলেনস্কি আরও লেখেন, ‘এসব ক্ষেত্রে কিরিলো বুদানভের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাষ্ট্রের এসব বিষয়ে লক্ষ্য অর্জনে তাঁর সক্ষমতা আছে।’
রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে গোয়েন্দাপ্রধান বুদানভকে বেছে নেওয়ার কথা জানালেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। গত বুধবার জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে চুক্তি হচ্ছে, সেটির ‘৯০ শতাংশ’ক্ষেত্রে একমত হওয়া গেছে।
২০২০ সালের আগস্টে কিরিলো বুদানভকে ইউক্রেনের জিইউআরের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তখন থেকেই তিনি এ পদে আছেন। এরপর ইউক্রেন ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়ায়, যা এখনো চলছে। এ যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক ‘দুঃসাহসী অভিযানের’ কৃতিত্ব ৩৯ বছর বয়সী কিরিলো বুদানভের ঝুলিতে গেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিরিলো বুদানভ কিয়েভের গোয়েন্দা তৎপরতার অত্যন্ত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। মস্কোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও কৌশলগত বার্তার মিশেলে তাঁর সাক্ষাৎকার আর ব্রিফিং নিয়মিত আলোচনায় আসে।
কিরিলো বুদানভ বরাবর ইউক্রেন ও এই অঞ্চল ঘিরে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অভিপ্রায়ের বিষয়ে সতর্ক করে এসেছেন। সেই সঙ্গে তিনি চলমান যুদ্ধকে রাষ্ট্রের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় কিরিলো বুদানভ জানান, তিনি ‘ইউক্রেনের সেবায়’ তাঁর কাজ চালিয়ে যাবেন।
এর আগে গত নভেম্বরে জেলেনস্কি তাঁর প্রভাবশালী চিফ অব স্টাফ ও শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী আন্দ্রি ইয়ারমাককে বরখাস্ত করেন। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দারা তৎকালীন চিফ অব স্টাফের বাড়িতে অভিযান চালানোর পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাসখানেকের বেশি সময় এ পদ ফাঁকা ছিল।