গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে নিজের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ‘জয়ের’ সিদ্ধান্তে অনড়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্ড গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। উত্তেজনা প্রশমনের আশায় এ বৈঠক আয়োজিত হলেও আদতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বৈঠক শেষে হতাশা প্রকাশ করে রাসমুসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারিনি। এটা স্পষ্ট, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড জয়ের ইচ্ছা পোষণ করছেন।’
একই দিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থানের পক্ষে আবার যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হলো, রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, তবে ডেনমার্কের কিছুই করার থাকবে না। কিন্তু আমাদের সবকিছু করার সক্ষমতা আছে।’
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মটজফেল্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ দেখালেও স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড কারও ‘সম্পত্তি’ হতে চায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৬ শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চাইলেও ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা ‘মালিকানা’।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে ১৫০ জন কর্মরত। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে রাজি হলেও ট্রাম্পের দাবি, এ অঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোনো প্রস্তাব তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের এ অবস্থানের কারণে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।