গ্রিসে একটি হ্রদের পাড়ে সম্প্রতি দুটি কাঠের টুকরা খুঁজে পাওয়া গেছে, যেগুলো প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
যদি তা–ই হয়, তবে এ দুটি কাঠের টুকরা হবে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হওয়ার কাঠের তৈরি সবচেয়ে প্রাচীন সরঞ্জাম।
যে দুটো টুকরা খুঁজে পাওয়া গেছে, তার একটি প্রায় আড়াই ফুট (৮০ সেন্টিমিটার) লম্বা সরু লাঠি। কাদার ভেতর খোঁড়াখুঁড়ি করতে খুব সম্ভবত লাঠিটি ব্যবহার করা হতো।
অন্য টুকরাটি দেখতে বেশ রহস্যময়। এটি আকারে প্রথম টুকরার চেয়ে অনেক ছোট। সেটিতে হাত দিয়ে চেপে ধরার জন্য একটি জায়গা আছে। টুকরাটি উইলো বা পপলার কাঠের টুকরা। খুব সম্ভবত পাথর দিয়ে কিছু বানাতে সেটি ব্যবহার করা হতো।
গত সোমবার প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে এ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাচীনকালে মানুষ পাথর, হাড় ও কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করত।
তবে প্রাচীন আমলের কাঠের তৈরি সরঞ্জাম তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ, কাঠ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কাঠের তৈরি সরঞ্জাম শুধু বিশেষ পরিবেশে যেমন বরফে, গুহায় বা পানির নিচে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
গ্রিসের মেগালোপোলিস বেসিনে খুঁজে পাওয়া নতুন টুকরা দুটি সম্ভবত পচন ধরার আগেই পানির তলদেশে মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে একটি আর্দ্র পরিবেশে সংরক্ষিত হয়ে যায়।
এ টুকরা দুটি যেখানে খুঁজে পাওয়া গেছে, সেখানে এর আগে পাথরের যন্ত্র এবং কাটা চিহ্নযুক্ত হাতির হাড় পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা কাঠের টুকরা দুটোর বয়স নির্ধারণ করতে পারেননি। তবে যে স্থানে এটি খুঁজে পাওয়া গেছে, তার বয়স ৪ লাখ ৩০ হাজার বছর।
ওই স্থানে এখন পর্যন্ত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। তবে গ্রিসের এই স্থানে সম্ভবত প্রাচীনকালের আরও অনেক নিদর্শন রয়েছে, যা এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায়। এমনটাই মনে করেন স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির প্রত্নতত্ত্ববিদ জ্যারড হাটসন।