
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির মরদেহ দেখতে এসে পদপিষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
আজ বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজাজি হল প্রাঙ্গণে করুণানিধির প্রতি সর্বসাধারণের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এলে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে হাজার-হাজার মানুষের ঢল নামে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিহত দুজনের মধ্যে একজন পুরুষ, অপরজন নারী। আর আহত লোকজনকে স্থানীয় রাজীব গান্ধী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
করুণানিধির দল ডিএমকের প্রেসিডেন্ট এম কে স্ট্যালিন অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এদাপাদি কে পালানিসওয়ামের নেতৃত্বে ওই এলাকায় বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে তিনি সেখানে আসা জনসাধারণকে নিয়ন্ত্রণ ও শান্ত রাখতে পুলিশের সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে প্রত্যেকে তাঁদের নেতার প্রতি সম্মান জানাতে পারেন।
যারা ক্ষমতায় আছে, তারা এই বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে উল্লেখ করেন এম কে স্ট্যালিন। একই সঙ্গে তিনি এই মুহূর্তে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।
তামিলনাড়ু রাজ্যের পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি (৯৪) গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চেন্নাইয়ের কাবেরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রায় ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ডিএমকে পার্টি থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তামিলনাড়ু শাসন করেছেন।
গত ২৮ জুলাই মূত্রনালির সংক্রমণ ও তীব্র জ্বর নিয়ে এম করুণানিধিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার রাতে হাসপাতালটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর অবস্থার অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জানানো হয়, তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক’। সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মেরিনা বিচে করুণানিধির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখনো দিনক্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মেরিনা বিচেই অধিকাংশ তামিল রাজনীতিবিদের সমাধিস্থল রয়েছে। তামিল রাজনীতির আরেক বর্ষীয়ান রাজনীতিক জয়ললিতাকেও এখানেই সমাহিত করা হয়।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে তামিলনাড়ুসহ দেশের সব দলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত জীবনী
থিরুভারুর জেলার একটি গ্রামে ১৯২৪ সালের ৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন এম করুণানিধি। পড়ালেখায় উদাসী থাকায় বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি তামিল ছবির চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিজেকে তৈরি করেন। ১৯৪৯ সালে ডিএমকে প্রতিষ্ঠা করা হলে তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হন। তামিলনাড়ু রাজ্যে ১৯৫৭ সালে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর দল বিধানসভার মোট ১৩টি আসনে নির্বাচন করে একটি আসনে জয়ী হন। ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে এম করুণানিধি পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট, গল্প, নাটক ও কবিতা লেখে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেন।