ভারতের উত্তর প্রদেশে স্ত্রীকে খুন করে কাঁদতে কাঁদতে থানায় এসে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এক তরুণ। আজ শনিবার সকালে রাজ্যের কানপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহারাজপুর থানায় হইচই পড়ে যায়। ওই তরুণ পুলিশ পরিদর্শককে বলেন, ‘স্যার…আমি আমার স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেছি। তাঁর দেহ কম্বলে মুড়িয়ে বাড়িতে রাখা হয়েছে।’
ওই তরুণের নাম শচীন (২২)। তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, হত্যার পর চার ঘণ্টা শহরে ঘুরেছেন। পালানোর কথাও ভেবেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থানায় আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে পুলিশ শচীনকে আটক করে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী শ্বেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শচীন ও শ্বেতার আসল বাড়ি উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ফতেহপুর জেলার মোহনপুর গ্রামে। পরিবারের অমতে আদালতে বিয়ে করার পর তাঁরা সুরাটে চলে যান।
শচীন সেখানে একটি কারখানায় কাজ কাজ নেন। এক মাস পর তাঁরা কানপুরে চলে যান। সেখানে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য শচীন অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।
অবশ্য সন্দেহের জেরে দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদে শচীন জানিয়েছেন, তিনি শ্বেতার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন। তিনি স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। তবে শ্বেতা তাঁর কাছে দাবি করেন, ওই অর্থ তিনি তাঁর দাদির কাছ থেকে পেয়েছেন।
নিজের সন্দেহ যাচাই করতে গতকাল শুক্রবার একটি পরিকল্পনা করেন শচীন। স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে আছেন। রাতে বাড়িতে থাকবেন না।
শচীনের দাবি, তিনি হঠাৎ বাড়িতে ফিরে কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় তাঁর স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে গল্প করতে দেখেন।
এ সময় শচীন ও শ্বেতার মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা জরুরি হেল্পলাইন ১১২–এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ দম্পতিকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। নিজেদের সমস্যা আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেয়।
কিন্তু বাড়িতে ফেরার পর স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শচীন তাঁর স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করেন।
স্ত্রী শ্বেতাকে হত্যার পর শচীন ঘণ্টাঘর এলাকায় পালিয়ে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টা বসে ছিলেন। তিনি পুলিশকে বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমাদের আর কেউ নেই, আমরা একে অপরের জন্য পালিয়ে বিয়ে করেছি। এখন তাঁর আর কেউ নেই, আমারও নেই। তাই আমি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছি।’
ময়নাতদন্তের জন্য শ্বেতার মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।