
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় (স্থানীয় সময়) প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে জেলায় জেলায় বিভিন্ন বুথের বাইরে সারিতে দাঁড়াতে শুরু করেন ভোটাররা। ভোট গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। জেলাগুলো হলো জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।
প্রখর রোদ আর গরমের কারণে অনেকেই সকাল সকাল ভোটের সারিতে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ফটকেই ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সকালে ইভিএম খারাপ থাকায় তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হতে কিছুটা দেরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ তিনটি কেন্দ্র হলো মুর্শিদাবাদের রানীনগর, ঝাড়গ্রামের হাড়দা রামকৃষ্ণ উচ্চবিদ্যালয় আর বীরভূমের সিউরি কেন্দ্র।
প্রথম দফার এ ১৫২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৪৭৮ প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী ১৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ, করনদিঘি ও ইটাহার আসনে।
আর কম প্রার্থী রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়, ৫ জন করে।
এ ১৫২ আসনে আজ ৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজার ১৭১ জন ভোট দেবেন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন। প্রতিবন্ধী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার। ভোট গ্রহণ চলছে ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে।
ভোটারের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ভোটার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে। ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার। আর সবচেয়ে কম মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে, ১ লাখ ৬১ হাজার। প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৪৩ জন।
প্রথম দফার ভোটে মোট ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। মুর্শিদাবাদে মোট ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। এরপরই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে রাজ্যের ৪০ হাজার পুলিশ। সব মিলিয়ে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা ৫ লাখ।
ভোট গ্রহণ শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করুন। বিশেষ করে তরুণ বন্ধুদের এবং পশ্চিমবঙ্গের নারীদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিন।’
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। প্রথম দফার ভোটের এ ১৫২ আসনের মধ্যে সর্বশেষ ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছিল ৯২ আসনে। বিজেপি জিতেছিল ৫৯ আসনে।
মমতা এখন পর্যন্ত টানা তিনবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ২০১১ সালে, বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে। এরপর ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এ পর্যন্ত টানা ১২ বছর ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এ সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ক্ষমতায় আসতে দলটি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। এ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।
এদিকে মুর্শিদাবাদের নওদা ভোটকেন্দ্রের কাছে গতকাল বুধবার রাতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নারী আহত হয়েছেন। রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়ালের কাছে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এবারের নির্বাচনে দুই দফায় ২৯৪ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। আজ প্রথম দফা, এরপর দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষিত হবে ৪ মে।