ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইম্ফলে কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজকুমার রঞ্জন সিংয়ের বাড়িতে আবার হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ সময় মন্ত্রী বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না।
গতকালের ঘটনার পর রঞ্জন সিং ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে জানান, তিনি বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে আছেন। ফলে তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউই আহত হননি। দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। হামলায় তাঁর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মণিপুরের বাসিন্দারা মনে করছেন, বুধবার দিবাগত রাতে ইম্ফলের পূর্বে ও পাশের কাংপোকপি জেলার সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার জেরে মন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে মে মাসের শেষ সপ্তাহে ইম্ফলের পাশে বিষ্ণুপুর জেলায় রঞ্জন সিংয়ের অপর একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সে সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে ছিলেন। তবে তাঁরা আক্রান্ত হননি।
এদিকে মণিপুরে শান্তি স্থাপনের কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। মণিপুর রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। নিয়মিত গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। মেইতেই ও কুকি উপজাতি সম্প্রদায়ের আলোচনার টেবিলে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই আপাতত নেই।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে উপজাতি সম্প্রদায় মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংসহ মেইতেইরা সম্পূর্ণ তাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে কুকিসহ অন্যান্য উপজাতি সম্প্রদায়কে আক্রমণের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মেইতেইরা বলছে, কুকিসহ অন্যান্য উপজাতি সম্প্রদায় ক্রমাগত সহিংসতা বাড়াচ্ছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রমাণ করা যায় যে মণিপুরে উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা প্রশাসনের দরকার। ফলে দুই পক্ষই আর পরস্পরকে বিশ্বাস করার মতো অবস্থায় নেই। কেন্দ্রীয় সরকারও মনে হচ্ছে, হাল ছেড়ে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং অবশ্য বলেছেন, সরকার একেবারেই হাল ছাড়েনি। বিভিন্ন স্তরে নানা গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দাবি করেন, মণিপুরের সহিংসতা ক্রমেই কমছে।
মণিপুরে গত ৩ মে কুকি উপজাতি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ও প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত মেইতেইদের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। প্রতিদিনই সেখান থেকে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।