দিল্লির যন্তর মন্তরে ফটক টপকে ঢুকে পড়ায় সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্ডেকে আটক করা হয়। ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দিল্লির যন্তর মন্তরে ফটক টপকে ঢুকে পড়ায় সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্ডেকে আটক করা হয়। ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকায় সৌরভ, আশুতোষ, অজিঙ্ককে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জানিয়েছে, দলটির নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্ডেকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সৌরভ সিজেপির প্রধান মুখপাত্র। আশুতোষ দলের জাতীয় মুখপাত্র। অজিঙ্ক এখন সিজেপির চলমান আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আটক হন সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্ক। তালাবদ্ধ ফটক টপকে অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর তাঁদের আটক করা হয়।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজিঙ্ক শিন্ডেসহ সিজেপির নেতাদের ‘প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারের’ আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি আজ বুধবার দিনের শুরুতে জানান দলের আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং। রত্না বলেন, আজ বুধবার সকালেই সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্ডেকে মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে হাজির করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রত্না সিং লেখেন, সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্ককে অনধিকার প্রবেশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অনধিকার প্রবেশ, বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

রত্না আরও জানান, আদালত হাজির পর এই তিন নেতাকে দিল্লির তিহার কারাগারে নেওয়া হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তাঁদের কারও সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

মধ্যরাতে সিজেপির তিন নেতাকে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আনে পুলিশ। সেখানে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে রত্না জানান, এত সব বেআইনি কার্যকলাপের পরও তিনজনের মনোবল অটুট।

গতকাল যন্তর মন্তরের ঘটনার একটি ভিডিও নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছিলেন আশুতোষ। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ আর অজিঙ্ক যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তাঁরা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন এবং আটক করেন।

এরপর দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সৌরভ ও আশুতোষের সঙ্গে আরও অন্তত ১০ জন ছিলেন। তাঁদের কয়েকজন জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়তে সক্ষম হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁদের সবাইকে আটক করা হয়েছে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না। গত রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।

যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য তিনটি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান।