
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার অঙ্গীকার করেছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটের ময়দানে কোনো ধরনের সহিংসতা বা কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বরদাশত করা হবে না। তবে ভোট কত দফায় হবে, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের জন্য ৮০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র থাকবে। ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জন ভোটার রাখা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি বুথেই থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈধ কোনো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না। ভোটারদের জন্য প্রতিটি বুথে সহায়তা কেন্দ্র, পানীয় জল ও মোবাইল ফোন রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
২০২১ সালের নির্বাচন আট দফায় অনুষ্ঠিত হলেও এবার অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এক দফায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসংগতি ধরা পড়লেও ভোটারদের শুনানি ও আপত্তির সুযোগ থাকছে। কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতিদের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ভোটাররা তাঁদের দাবি জানাতে পারবেন। এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ১৬ হাজার ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জ্ঞানেশ কুমার।
আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ২০২৬-এর এই নির্বাচনের মাধ্যমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে বিজেপির আসনসংখ্যা ৫০-এর নিচে, এমনকি ৪০-এর নিচেও নেমে যেতে পারে।
তবে সবার নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনের দিকে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রিত্ব টেকান মমতা। এবারও তিনি এই আসন থেকেই লড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে বিজেপি কাকে দাঁড় করাবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং আরজি কর হাসপাতালে নিহত নারী চিকিৎসকের বাবার নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিজেপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করেনি। চলতি মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।