বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: ‘প্রতিশোধ নয়, পরিবর্তনের’ ডাক প্রধানমন্ত্রী মোদির

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে এবং এই ফলাফল ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উন্নয়নমূলক রাজনীতির প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপি সদর দপ্তরে দলীয় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পদুচেরির ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে চলমান সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেও স্থিতিশীল শাসনের পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।

মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু একটি ব্যবস্থা নয়, এটি এমন এক ঐতিহ্য, যা আমাদের রক্তে প্রবাহিত...আজ শুধু ভারতের গণতন্ত্রই বিজয়ী হয়নি, এর সংবিধানও বিজয়ী হয়েছে। আমাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিজয়ী হয়েছে, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো বিজয়ী হয়েছে।’

বর্তমানে ভারতে ২০টির বেশি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নাগরিক দেবো ভব’ (নাগরিকই দেবতা) মন্ত্রে পরিচালিত বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিও জোট সরকার আজ ২০টির বেশি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে...আমরা জনগণের সেবায় নিবেদিত, তাই মানুষ ক্রমেই বিজেপির ওপর বেশি করে আস্থা রাখছে...যেখানে বিজেপি আছে, সেখানে সুশাসন আছে...সেখানে উন্নয়ন আছে।’

শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মতো বিদগ্ধ নেতাদের স্বপ্নের ‘শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলা’ গড়ে তোলার সুযোগ বিজেপি পেয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে বাংলার ভাগ্যে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো, যা হবে ভয়মুক্ত এবং আশ্বাসে পরিপূর্ণ।’

নাগরিকদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদি বলেন, ‘আজ আমি বাংলার প্রতিটি নাগরিককে আশ্বস্ত করছি, বিজেপি দিনরাত বাংলার উন্নয়নে কাজ করবে; নারীরা নিরাপত্তার পরিবেশ পাবেন, তরুণেরা কর্মসংস্থান পাবেন, অভিবাসন থামবে। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই “আয়ুষ্মান ভারত যোজনা” অনুমোদন পাবে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”—এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজে বিজেপির নেতা–কর্মীরা

মোদি রাজ্যের সব রাজনৈতিক পক্ষকে কয়েক দশক ধরে রাজ্যকে গ্রাস করে থাকা রাজনৈতিক সহিংসতার দুষ্টচক্র থেকে ‘বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলা যখন এই নতুন যুগে প্রবেশ করছে, আমি অন্য দলগুলোর কাছে তাদের অভ্যাস পরিবর্তনের অনুরোধ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ যখন বিজেপি জয়ী হয়েছে, তখন প্রতিশোধ নয়, পরিবর্তনের কথা বলা উচিত; ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা বলা উচিত।’

এদিন ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণও করেছেন মোদি। তিনি বিরোধীদের প্রতি অভিযোগ তুলে বলেন, বিরোধীরা সারা দেশে আইনসভাগুলোয় নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ দ্রুত বাস্তবায়নে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

মোদি বলেন, ‘নারীশক্তি (নারীর ক্ষমতায়ন) “বিকশিত ভারত”-এর আরেকটি স্তম্ভ, কিন্তু কংগ্রেস এটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে...এই দলগুলো সংসদে নারী ক্ষমতায়ন আইন পাস হতে দেয়নি। আমি এসব দলকে সতর্ক করে বলেছিলাম, তাদের নারী ভোটারদের ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হবে। আজ কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস...শাস্তি পেয়েছে। কেরালায় আগামীবার কংগ্রেসকে শিক্ষা দেওয়া হবে। উত্তর প্রদেশেও কংগ্রেসকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে; সমাজবাদী পার্টিও তাদের করা পাপ থেকে মুক্তি পাবে না।’

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩ (একটি আসনে ভোট গ্রহণ নতুন করে হবে) আসনের ফলাফলে বিজেপি ২০৬টিতে হয় জয়ী ঘোষিত, নয়তো এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এমন আসনসংখ্যা ৮১। তৃণমূলের প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজ আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন।

১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় তৃণমূল। ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাম ফ্রন্টকে হারিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতার দল তৃণমূল।