ওমানের মুসানদামের কাছে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো দেখা যাচ্ছে। ৮ মে, ২০২৬
ওমানের মুসানদামের কাছে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো দেখা যাচ্ছে। ৮ মে, ২০২৬

হরমুজে নিয়ন্ত্রিত চলাচলের মধ্যে ইরানের সঙ্গে জ্বালানিচুক্তি করল ইরাক ও পাকিস্তান

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইরাক ও পাকিস্তান—দুই দেশই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র রয়টার্সকে এমন তথ্য দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ চলার মধ্যে এমন চুক্তির খবর পাওয়া গেছে।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ার বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে এমন একটি অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে, যেখান থেকে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। যদিও ইরান শুরুতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে চেয়েছিল, তবে এখন সেই অবস্থান বদলাচ্ছে।

ক্লদিও স্টয়ার আরও বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন সেখানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করছে। হরমুজ এখন আর নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, এটি এখন নিয়ন্ত্রিত করিডর।’

সাধারণত ইরাকের বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়েই রপ্তানি করা হয়। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার একটি ইরাক। অন্যদিকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা পাকিস্তানও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশটিতে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে।

বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে আগে প্রকাশ না হওয়া একটি চুক্তির আওতায় গত রোববার ইরাকের তেলবাহী বিশাল দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

প্রাথমিক চুক্তি ও চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবগত থাকা ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে তাঁর দেশ এখন ইরানের সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ, ইরাকের বাজেটের ৯৫ শতাংশই তেল থেকে আসা আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইরাক ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাই ইরাকের অর্থনীতি খারাপ হলে দেশটিতে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা এবং জাহাজ চলাচল খাতের একটি সূত্রও তেহরানের সঙ্গে এসব আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সব সূত্রই নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ইরাক সরকারের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের জন্য কাতারের এলএনজি

শিল্প খাতের দুটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পর কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি ট্যাংকার এখন পাকিস্তানের দিকে যাচ্ছে। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই দুই সূত্রও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে পাকিস্তানে প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো যেত। এখন গরমের মৌসুমে বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দেশটির জ্বালানির প্রয়োজন বেড়েছে।

সূত্রগুলো বলেছে, ইরাক বা পাকিস্তান এসব জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেতে ইরান বা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে (আইআরজিসি) সরাসরি কোনো অর্থ দেয়নি।

সূত্র আরও বলেছে, কাতার সরাসরি এসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে যুক্ত ছিল না। তবে পাকিস্তানে জ্বালানি পাঠানোর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।