
চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে ইরান সম্ভবত চীনের স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করছে। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা এমনটাই ধারণা করছেন।
ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক অ্যালেইন জুইলেট চলতি সপ্তাহে দেশটির বেসরকারি পডকাস্ট ‘তুকসান’-এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত চীনের বাইদু স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। কারণ, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে তাদের নিশানায় আঘাতের সক্ষমতা অনেক বেশি নিখুঁত হয়ে উঠেছে।
২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর এক্সটার্নাল সিকিউরিটি-এর গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জুইলেট। তুকসানকে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের অন্যতম চমক হলো, আট মাস আগের যুদ্ধের তুলনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন অনেক বেশি নির্ভুল আঘাত হানছে। আর এটি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গাইডেন্স সিস্টেম বা লক্ষ্যবস্তু নিশানা করার প্রযুক্তি নিয়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে।
ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ধেয়ে আসা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে ঠিকই, তবে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
আগে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মালিকানাধীন গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) ওপর নির্ভর করত। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করতে বা এর ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু ইরান যদি চীনের বাইদু সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে, তবে তাতে হস্তক্ষেপ করার তেমন কোনো ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। অবশ্য ইরান এ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বা কোনো মন্তব্য করেনি।
চীন ২০২০ সালে তাদের স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ চালু করে, যা জিপিএসের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। ২০২০ সালের জুলাইয়ে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে এক অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিস্টেমের উদ্বোধন করেন।
১৯৯৬ সালে তাইওয়ান সংকটের পরই চীন নিজেদের স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করে। কারণ তাদের আশঙ্কা ছিল, ভবিষ্যৎ সংঘাতের সময় ওয়াশিংটন হয়তো জিপিএস ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
বাইদুর জন্য তৈরি চীন সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই নেভিগেশন সিস্টেমের লক্ষ্য হলো ‘বিশ্বের সেবা করা এবং মানবজাতির কল্যাণ সাধন’।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীনের এই সিস্টেমে অন্য নেভিগেশন সিস্টেমের চেয়ে অনেক বেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। আল জাজিরার এজে ল্যাবস ডেটা টিমের তথ্যমতে, মার্কিন জিপিএস সিস্টেমে তথ্য সরবরাহের জন্য ২৪টি স্যাটেলাইট রয়েছে। অন্যদিকে, চীনের সিস্টেমটি ৪৫টি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের অন্য দুটি প্রধান নেভিগেশন সিস্টেম হলো রাশিয়ার গ্লোনাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যালিলিও। এগুলোর প্রতিটিতে ২৪টি করে স্যাটেলাইট রয়েছে।
বাইদু ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই সিস্টেমটি তিনটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত—স্পেস সেগমেন্ট, গ্রাউন্ড সেগমেন্ট এবং ‘ইউজার’ সেগমেন্ট। এতে বলা হয়, ‘বিডিএস গ্রাউন্ড সেগমেন্টে মাস্টার কন্ট্রোল স্টেশন, টাইম সিঙ্ক্রোনাইজেশন/আপলিংক স্টেশন এবং মনিটরিং স্টেশনসহ নানা ধরনের গ্রাউন্ড স্টেশন রয়েছে। পাশাপাশি এখানে আন্তঃস্যাটেলাইট লিংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধাও রয়েছে।’
বিশ্বব্যাপী কভারেজ দেওয়া অন্যান্য স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেমের মতোই কাজ করে বাইদু। এটি স্যাটেলাইট থেকে ভূমিতে বা যানবাহনে থাকা রিসিভারে টাইমিং সিগন্যাল বা সংকেত পাঠায়। একাধিক স্যাটেলাইট থেকে রিসিভারে সংকেত পৌঁছাতে কত সময় লাগে, তা মেপে এই সিস্টেম ভৌগোলিক অবস্থান খুব নিখুঁতভাবে হিসাব করতে পারে।
ব্রাসেলস-ভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘সেবার স্তরের ওপর ভিত্তি করে এই সিস্টেমের নির্ভুলতা নির্ভর করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত সিগন্যালগুলো সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিটারের মধ্যে নির্ভুল অবস্থান জানাতে পারে। তবে কেবল অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জন্য সংরক্ষিত সেবা অনেক বেশি নির্ভুল তথ্য দিতে সক্ষম।’
ইরান বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এত অল্প সময়ের মধ্যে সামরিক অভিযানগুলোকে নতুন একটি স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেমে স্থানান্তর করা আদৌ সম্ভব কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়।
ওই সংঘাতের পর ইরানের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইরান ‘বিশ্বে বিদ্যমান সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগায় এবং শুধু একটি প্রযুক্তিগত উৎসের ওপর নির্ভর করে না।’
তবে জুইলেট তুকসানকে বলেছেন, গত বছর থেকে ইরান তাদের হামলার নির্ভুলতা যেভাবে বাড়িয়েছে, তার একটি বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা হতে পারে চীনের বাইদু সিস্টেমে স্থানান্তর হওয়া। তিনি বলেন,‘জিপিএস বাদ দিয়ে চীনা সিস্টেম ব্যবহারের কথা শোনা যাচ্ছে। এটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নির্ভুলতার বিষয়টি জানান দিচ্ছে। ... গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে তারা নিখুঁত আঘাত হেনেছে।’
অবশ্য কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইরান কেবল গত আট মাস নয়, আরও অনেক আগে থেকেই চীনের নেভিগেশন সিস্টেম নিজেদের প্রযুক্তিতে যুক্ত করার জন্য কাজ করে আসছিল।
চীন-ইরান সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণামূলক প্ল্যাটফর্ম চায়নামেড প্রজেক্টের রিসার্চ ফেলো থিও নেনসিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘২০১৫ সালেই ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামোতে বাইদু-২ যুক্ত করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল বলে জানা যায়। বিশেষ করে আগে তাদের সেনাবাহিনী যে বেসামরিক জিপিএস ব্যবহার করত, তার চেয়েও অনেক বেশি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র গাইডেন্স সিস্টেম উন্নত করাই ছিল এর লক্ষ্য।’
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সিস্টেম চালুর প্রক্রিয়া ধীরগতিতেই এগোচ্ছিল। তবে ২০২১ সালের মার্চ মাসে চীন-ইরান সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির পর এই কাজে গতি আসে। মনে করা হয়, ওই সময় চীন তাদের বাইদু সিস্টেমের এনক্রিপ্টেড সামরিক সংকেত ব্যবহারের অনুমতি দেয় ইরানকে।
নেনসিনি বলেন, ‘এরপর থেকেই ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গাইডেন্স ব্যবস্থা এবং কিছু নিরাপদ যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বাইদু সিস্টেম যুক্ত করতে শুরু করে।’
বাস্তব অর্থে এই পরিবর্তনের মানে হলো, ইরান ২০২১ সালের দিকেই মার্কিন জিপিএস ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে শুরু করে।
নেনসিনি বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলে ইরানের প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্ভুলতা দেখে তখনই কিছু বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন যে, এর পেছনে বাইদু বড় ভূমিকা রেখেছিল।
তবে ধারণা করা হয়, ইরান ২০২৫ সালের জুন মাসেই তাদের পুরো ব্যবস্থাকে বাইদুতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে পরিবহন ও লজিস্টিকসের মতো বেসামরিক খাতগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১২ দিনের যুদ্ধের ঠিক পরপরই এই পরিবর্তনটি আনা হয়। ওই যুদ্ধের সময় জিপিএসে ব্যাঘাত ঘটায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নিশানা ঠিক করা এবং বেসামরিক উড়োজাহাজ ও জাহাজ চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
নেনসিনি বলেন, ‘বাইদুমুখী ইরানের এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরান কতটা সচেতন, যে প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গতিপথ ঠিক করে দিবে। তবে ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা স্পষ্টতই একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এটি গত বছর তেহরানকে দ্রুত পুরোপুরি বাইদুমুখী করেছিল।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই বাইদু প্রযুক্তির নাগাল পেয়ে থাকে, তবে তা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি বিষয়।
ব্রাসেলস-ভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘স্যাটেলাইট নেভিগেশনের বিবর্তন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা বদলে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একসময় নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা কেবল হাতে গোনা কয়েকটি উন্নত সামরিক শক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন গ্লোবাল নেভিগেশন অবকাঠামোর সহজলভ্যতা একে নতুন রূপ দিচ্ছে। দূরপাল্লার অস্ত্রগুলো যখন আরও নির্ভুল ও বাধাপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে, তখন সমসাময়িক যুদ্ধগুলোর প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরিতে বাইদুর মতো সিস্টেমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকবে।’
চীন-ইরান সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ নেনসিনির মতে, বাইদুর এই কার্যকারিতার খবর যদি সত্যি বলে প্রমাণিত হয়, তবে এটি ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে জিপিএসের ওপর তাদের নির্ভরশীলতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে, বিশেষ করে যারা এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু। তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এটি আঞ্চলিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন অবকাঠামোকে আরও বহুমুখী করে তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে।’
নেনসিনি বলেন, চলমান এই যুদ্ধ চীনকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের মতো একটি বৃহৎ অপারেশনাল ক্ষেত্রে তাদের নেভিগেশন ক্ষমতার ‘মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা’ চালানোর সুযোগ করে দিতে পারে। বিশেষ করে, যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত। আর চীন ‘নিশ্চিতভাবেই তাদের নজরদারি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে।’
নেনসিনি আরও বলেন, ‘ফলে এই যুদ্ধ চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ ফাইটার জেটের বিপরীতে তাদের সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করার সুযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাইদু-নিয়ন্ত্রিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকানোর ক্ষেত্রে মার্কিন সক্ষমতা সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে তারা।’
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের সঠিক আকার জানা না থাকলেও, এটি ওই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে উন্নত বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কয়েক শ কিলোমিটার থেকে শুরু করে মহাদেশ পাড়ি দিয়ে ১০ হাজার কিলোমিটারের (৬,২০০ মাইল) বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
ইসরায়েল ও মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানে শনাক্তযোগ্য সব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে। এ প্রসঙ্গে জুইলেট তুকসান পডকাস্টকে বলেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক সংখ্যা এবং সেগুলো কোথায় রাখা আছে, তা কারও জানা নেই।
জুইলেট বলেন, ‘ইরানের আয়তন ফ্রান্সের তিন গুণ। আর সারা দেশেই ট্রাকের ওপর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্থাপন করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। এত বিশাল এলাকার মধ্যে এই ট্রাকগুলোর অবস্থান কীভাবে শনাক্ত করা সম্ভব?’
সাবেক এই ফরাসি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমনটি মাথায় রেখে ইরান সম্ভবত ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়ে এখন আরও বেশি ‘বিচক্ষণতার’ সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছে। ইরান তাদের অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের আগেই সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
এই কারণেই ড্রোন ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের কাছে তাদের উদ্ভাবিত এবং গণহারে উৎপাদিত ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি বিনিময় করার অনুরোধ জানিয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়াও ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করছে।