ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

গাজায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তি

ফিলিস্তিনের গাজায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জোট সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে আজ রোববার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর।

গত সপ্তাহে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা পরিচালনায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের ঘোষণা দেয় হোয়াইট হাউস। এই অন্তর্বর্তী প্রশাসন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের অধীনে কাজ করবে। পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠন করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস ঘোষিত গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া কাতারের কূটনীতিক আল আল–থাওয়াদিসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেরা এই কমিটিতে আছেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকেও ট্রাম্প আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং শাহবাজ শরিফ তা গ্রহণ করেছেন।

গতকাল শনিবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গাজায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন নিয়ে আপত্তি জানায়। বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই ‘বোর্ড অব পিসে’র অধীন গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন–সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ইসরায়েলি নীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।’

তবে বিবৃতিতে আপত্তির কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। যুদ্ধ–পরবর্তী গাজায় তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে।

ইসরায়েলের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা নিয়ে দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের নেতারা আজ বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনে কারা রয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি ছাড়াও ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের দল রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের জিউশ পাওয়ার দলের নেতারা বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শান্তি পর্ষদে এরদোয়ান ও সিসিকে চান ট্রাম্প

এদিকে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারক করতে ঘোষণা করা ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যুক্ত হতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প।

গত শুক্রবার শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন। আরও থাকছেন মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল ও জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে জানান, এরদোয়ান এক দিন আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

একই দিন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পর্ষদে যোগ দিতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আল-সিসি যে আমন্ত্রণ পেয়েছেন, সেটি পর্যালোচনা করছে তাঁর দেশের সরকার।

তবে এ পর্ষদের ঘোষণার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনিরা।