ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায়সংগত আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো ধরনের হুমকির মুখে এ আলোচনা সম্ভব নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন একসময় এ মন্তব্য করলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

গতকাল শুক্রবার তুরস্ক সফরকালে সাংবাদিকদের আরাগচি বলেন, আলোচনায় বসতে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। তবে হুমকির ছায়াতলে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কখনো কোনো আলোচনার বিষয়বস্তু হবে না। আমাদের জনগণের নিরাপত্তা অন্য কারও মাথাব্যথার বিষয় নয়। দেশকে রক্ষায় যতটুকু প্রয়োজন, আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ততটুকু বজায় রাখব ও বৃদ্ধি করব।’

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের বারবার হামলার হুমকির জেরে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জানান, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এমনকি আলোচনার টেবিলে না এলে প্রয়োজনে ‘সহিংস’ হতেও প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের বারবার হামলার হুমকির জেরে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জানান, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এমনকি আলোচনার টেবিলে না এলে প্রয়োজনে ‘সহিংস’ হতেও প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন ইরানের দিকে আরও জাহাজ পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। যদি হয় তবে ভালো; আর না হলে কী হয় তা দেখা যাবে।’

২০১৮ সালে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সই হওয়া ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফা সরে আসেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে। বর্তমানে ওয়াশিংটন তেহরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছে। যদিও ইরান বরাবর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিদ্যমান এ সংকট নিরসনে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং সংকট সমাধানে দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।