
ফিলিস্তিনের বিধ্বস্ত গাজা নগরীতে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিশু পাঁচটি। অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর আজ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ধসে পড়া ভবনটিতে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। ভবনটি ইসরায়েলি হামলায় আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনেই থাকতেন যুদ্ধে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় ফিলিস্তিনিরা।
এ ঘটনার জন্য আমরা দখলদার পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুরোপুরি দায়ী করছি। বহুতল আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ার ঘটনা এ অঞ্চলে চলমান মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করে তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, অন্তত ছয়টি পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
ঘটনাস্থলে কর্মরত গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাতে আল–জাজিরা জানায়, ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০০ মানুষ আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শিশু রয়েছে।
ভবন ধসের এ ঘটনার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। গাজার গণমাধ্যম দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ ঘটনার জন্য আমরা দখলদার পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুরোপুরি দায়ী করছি। বহুতল আবাসিক ভবনটি ধসে পড়ার ঘটনা এ অঞ্চলে চলমান মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করে তুলেছে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটিতে হামলা থামায়নি দেশটি। ঘটছে প্রাণহানিও। যুদ্ধের জেরে পুরো গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে গাজার ৯২ শতাংশ আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এখন তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।