
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বর্তমান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্রপন্থী ‘খুনি’ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কয়েক দিন আগেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব হামলাকে সামান্য ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওলমার্ট এই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন।
গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওলমার্ট বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের এই হামলা কেবল গুটিকয় উগ্রবাদীর কাজ নয়; বরং এটি রাজনীতিবিদ, পুলিশ ও সামরিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পরিচালিত সুপরিকল্পিত এক অভিযান।
ওলমার্ট বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যা ঘটছে, সেটাকে ‘হিংস্র ও খুনি যুদ্ধ’ ছাড়া অন্য কোনো নামে ডাকার উপায় নেই। এসব হামলার লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন ও গণ-উচ্ছেদ।’
গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী অক্টোবর মাসেই ২৬০টির বেশি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০০৬ সালের পর এক মাসে সর্বোচ্চ।
অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
ওলমার্ট নিজেই ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল মেয়াদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনেই দায়মুক্তি নিয়ে এসব অপরাধ করছে।
সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দাঙ্গাবাজদের আটক না করাটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটি বর্তমান সরকারের একটি পরিকল্পিত নীতি।’
ওলমার্ট সন্দেহভাজন ইহুদিদের বিনা বিচারে আটক রাখা বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন, এসব বিষয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরও সাহসী করে তুলেছে।
এহুদ ওলমার্ট বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ কিশোর অপরাধীদের দল নয়। এটি একটি সামরিক ও সন্ত্রাসী মিলিশিয়া বাহিনী, যারা পরিকল্পিতভাবে পশ্চিম তীরের ইহুদি সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষের সবকিছু ধ্বংস করছে।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনী এই সন্ত্রাসে সহযোগিতা করছে। একে পুলিশের সরাসরি মদদ ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না।
ওলমার্ট নিজেও ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালে গাজায় সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ওই সময় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন।
ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, মাত্র ‘৭০ জনের মতো কিশোর’ এই সহিংসতার জন্য দায়ী। তারা মূলত ঘরবাড়ি ভাঙা বা জলপাইগাছ কাটার মতো কাজ করে। ওলমার্ট এই দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওলমার্ট সতর্ক করে বলেন, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন। বিচারকদের লক্ষ্য করে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা ১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনকে হত্যার আগের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়।
এহুদ ওলমার্টের মতে, এটি কেবল কথার কথা নয়, বরং আইনব্যবস্থা ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা।