ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ

ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট ‘কুঠার’ দিয়ে প্রধান পাইলটকে আঘাত করেন: আরব আমিরাত

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে গত বুধবার হামলার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সেদিন ককপিটের ভেতর সহকারী পাইলট ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ (বিশেষ একধরনের কুঠার) দিয়ে প্রধান পাইলটকে আঘাত করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ ঘটনাকে সহকারী পাইলটের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

জরুরি পরিস্থিতিতে একটি উড়োজাহাজের কোনো অংশ কেটে বের হওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের এই কুঠার ককপিটের ভেতর সংরক্ষিত রাখা হয়।

এর ফলে একটি বড় প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল। বুধবারের ওই ঘটনার পর সবার মনে যে প্রশ্নের উদয় হয়েছে, সেটি হলো একজন পাইলট কীভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে উড়োজাহাজের ককপিটে ঢুকলেন। তা–ও আবার ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটে। বিশ্বের যে কয়টি দেশে উড়োজাহাজ চলাচলে সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করে রেখেছে, ইসরায়েল তার অন্যতম।

‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ হলো একটি বিশেষ ধরনের কুঠার, যা জরুরি পরিস্থিতিতে একটি উড়োজাহাজের কোনো অংশ কেটে বের হওয়ার জন্য ককপিটের ভেতর রাখা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম আজ শনিবার পাবলিক প্রসিকিউটর হামাদ সাইফ আল–শামসির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুধবারের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে হামলাকারী পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

আল–শামসি আরও বলেন, ঘটনার সব পরিস্থিতি, এর উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি কারিগরি পরীক্ষা ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সব ধরনের আলামতও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হবে বলেও জানান আল–শামসি।

বুধবার ১৭৪ আরোহী নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিব যাচ্ছিল। এ সময় সহকারী পাইলট প্রধান পাইলট স্মিথ মছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন। হামলায় ভারতীয় পাইলট স্মিথ গুরুতর আহত হন। তবে তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সহকারী পাইলটকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেননি।

হামলার শিকার ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার

তবে ইসরায়েলি দুটি সূত্র দাবি করেছে, হামলাকারী ওই সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। তাঁর নাম হাম্মাম আল–হাম্মামি।

মাঝ আকাশে দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির সময় উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। পরে পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিরস্ত্র করেন এবং উড়োজাহাজে থাকা অন্য দুই পাইলট সেটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

তারপর ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করা হয়। উত্তর–পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুকে প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।