মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুদ্ধ বন্ধে চাপে ট্রাম্প, ইরান নিয়ে ভয়ে আছেন মিত্ররা

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে নিজের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে যুদ্ধ থামানোর অভ্যন্তরীণ চাপ। অন্যদিকে তেহরানের ‘অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ দেশটিকে আগের চেয়ে আরও বিপজ্জনক আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে বলে মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন এই দুই বিপরীতমুখী চাপে কোণঠাসা।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প যাকে ‘সামান্য যাত্রাবিরতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেই সংঘাতের প্রায় চার সপ্তাহ শেষ হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাজার হাজার বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের সরকার ক্ষমতা ধরে রেখেছে। দেশটি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তাদের অনমনীয় অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে।

ট্রাম্প এবং তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা দ্রুতই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে চান। তাঁদের ভাষ্যমতে, এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল এবং ২৬তম দিনে এটি পরিকল্পিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পূর্বনির্ধারিত চীন সফর ১৪ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউস ওই সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে আশা করছে।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে একটি ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রচার করেছেন। এই ১৫ দফায় যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্পের দেওয়া শর্তগুলোরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

ইরান এই যুদ্ধ টেনে নিতে চায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের দুটি উদ্দেশ্য ছিল-প্রথমত, টিকে থাকা আর দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হেনে তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় এমন পদক্ষেপ না নেয়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইসরায়েল লেবাননে যেভাবে প্রতি ছয় মাস পরপর হামলা করে, এখানে তেমনটা করতে না পারে।
—নেইট সোয়ানসন, সদস্য, আটলান্টিক কাউন্সিল

তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ঝুঁকিগুলোকে আমূল বদলে দিয়েছে। লড়াই শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকলেও এখন তা একটি ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’।

পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র শুরু থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয়ে ছিল। এই মিত্ররা এখন আশঙ্কা করছে, কট্টরপন্থী নেতাদের শাসনাধীন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরান এসব দেশের জনগণের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালির কারণে শক্ত অবস্থানে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের দোদুল্যমান অবস্থার চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

হরমুজ সংকট নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ধরা যাক আমরা দারুণ কাজ করলাম এবং ৯৯ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন করলাম। কিন্তু বাকি ১ শতাংশ অর্জনযোগ্য নয়। আর ওই ১ শতাংশের মানে হলো একটি ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি জাহাজে আঘাত হানা।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা যদি ৯৯ শতাংশ ধ্বংসও করতে পারি, তাতেও কোনো লাভ নেই।’

ট্রাম্প সরাসরি না বললেও ইরানি কর্মকর্তারা সম্ভবত এই ৯৯-১ শতাংশের অসম ব্যবধানের ওপরই ভরসা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত বোমা হামলায় ইরান সামরিকভাবে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও এই সমীকরণটি তেহরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে দেশটির নেতারা জনসমক্ষে তাঁদের দাবিগুলোতে অনড় রয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হামলা না করার অঙ্গীকার করতে হবে।

চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের সদস্য এবং গত বছর ট্রাম্পের ইরানসংশ্লিষ্ট আলোচনা দলে থাকা সাবেক কূটনীতিক নেইট সোয়ানসন বলেন, ‘ইরান এই যুদ্ধ টেনে নিতে চায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের দুটি উদ্দেশ্য ছিল—প্রথমত, টিকে থাকা আর দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হেনে তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় এমন পদক্ষেপ না নেয়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে ইসরায়েল লেবাননে যেভাবে প্রতি ছয় মাস পরপর হামলা করে, এখানে তেমনটা করতে না পারে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে দেশটির নেতারা জনসমক্ষে তাঁদের দাবিগুলোতে অনড় রয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হামলা না করার অঙ্গীকার করতে হবে।

হরমুজ প্রণালি

বিপরীত মেরুতে দুই পক্ষ

কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো কতটা আছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আজ একটি খবর পড়লাম যে আমি নাকি চুক্তির জন্য মরিয়া। আসলে আমি তা নই। আমি তার উল্টো। আমি এসবের পরোয়া করি না। সত্যি বলতে, সরে আসার আগে আমাদের আরও কিছু লক্ষ্যবস্তু আছে যেখানে আমরা হামলা চালাতে চাই।’

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৩ হাজার ৫০০ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এ ছাড়া ৬১ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের এই সংকট মোকাবিলার কৌশলের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজ, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটি, সিবিএস নিউজ এবং রয়টার্স-ইপসোসের জরিপেও এই যুদ্ধের বিরোধিতার হার ৫৪ থেকে ৬১ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার শেষের দিকে ট্রাম্প সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দেন। তিনি জানান, আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি ইরানের ‘জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করার অভিযান ১০ দিনের জন্য স্থগিত’ করছেন।

সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইলান গোল্ডেনবার্গ বলেন, এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যকার ব্যবধান বিশাল।

গোল্ডেনবার্গ বলেন, ‘আমেরিকার অবস্থান ছিল মূলত ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আর ইরানের পাল্টা অবস্থান ছিল আমেরিকার আত্মসমর্পণ। আমেরিকার দাবি ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রক্সি বাহিনী ত্যাগ করো। আর ইরানের দাবি ছিল আমাদের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাও এবং মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যাও।’

ইরানের হামলার পর জেবেল আলী বন্দর থেকে উড়ছে ধোঁয়া। দু্বাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১ মার্চ ২০২৬

উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন

গোল্ডেনবার্গ আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় যেসব আরব দেশ এখন ইরানের হামলার আশঙ্কায় রয়েছে, তারা ‘পুরোপুরি বিপর্যয়ের’ মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা এই যুদ্ধ চায়নি এবং এর বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিল। এমনকি তারা এটি থামানোর চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু এখন বলছে তোমাদেরকে “কাজটি পুরোপুরি শেষ করতে হবে” (ফিনিশ দ্য জব)। তবে এটি বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা এক ভিন্ন বিষয়।’

গত বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্পের মন্ত্রীরা দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট একটি বড় শত্রুর বিরুদ্ধে এমন এক আঘাত হানছেন, যা এক প্রজন্মের মধ্যে একবারই দেখা যায়। অনেক কর্মকর্তাই মার্কিন জনগণের কাছে এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে সচেষ্ট ছিলেন—কেন এই যুদ্ধটি বিগত বছরগুলোর মতো মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মতো নয়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। তেহরান, ইরান। ৮ মার্চ ২০২৬

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি এখন এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী ইরানের হুমকির মুখে বাস করতে না হয়।’

হেগসেথ বর্তমান লড়াইয়ের সঙ্গে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ইরাক যুদ্ধের একটি সুস্পষ্ট পার্থক্যের কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইরাকের মতো এখানে কোনো অমীমাংসিত কিছু নেই। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। এটি কেবলই সাফল্য। পরিকল্পনামাফিক আমেরিকার নিরঙ্কুশ সাফল্য।’

জনমত যুদ্ধের বিরুদ্ধে

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এসব দাবি এমন এক সময়ে আসছে, যখন এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহে ১০ হাজারের বেশি আমেরিকানের ওপর পরিচালিত পাঁচটি জাতীয় জরিপে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিকই এই যুদ্ধের বিরোধী এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের প্রতি তাঁদের সমর্থন নেই। শুরুর দিনগুলোতে যুদ্ধের বিরোধিতা তুলনামূলক কম ছিল এবং জনমতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। কিন্তু বর্তমান চিত্র তার উল্টো।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৩ হাজার ৫০০ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এ ছাড়া ৬১ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের এই সংকট মোকাবিলার কৌশলের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজ, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটি, সিবিএস নিউজ এবং রয়টার্স-ইপসোসের জরিপেও এই যুদ্ধের বিরোধিতার হার ৫৪ থেকে ৬১ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের রিপাবলিকান সমর্থকেরা যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও জরিপ বলছে, নিরপেক্ষ বা স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বিরোধিতার হার ২:১ ব্যবধানের চেয়েও বেশি। পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান ঘরানার স্বতন্ত্র ভোটারদের মাত্র অর্ধেক ট্রাম্পের এই অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সাধারণ আমেরিকানরা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার পক্ষে থাকলেও অর্ধেকের মতে এই অভিযান ‘মোটামুটি ভালো’ চলছে। তবে সিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনই মনে করেন এটি একটি ‘ইচ্ছাকৃত চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’। বেশির ভাগ মানুষের ধারণা, এই যুদ্ধ আমেরিকাকে ‘অধিকতর নিরাপদ’ করার বদলে ‘কম নিরাপদ’ করবে।

স্যাটেলাইট চিত্রে খারগ দ্বীপে একটি তেলের টার্মিনাল দেখা যাচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে মিশ্র বার্তা

যখন আরও কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে, তখন যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হবে সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মিশ্র বার্তা দিচ্ছেন। অতিরিক্ত এই বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি একটি স্থল অভিযানের ইঙ্গিত হতে পারে।

গত কয়েক দিনে ট্রাম্পকে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে যে তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে বা দেশটির তেলশিল্পের প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনা পাঠাবেন কি না। ইউরেনিয়াম জব্দের ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল এই অভিযানে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অবশ্য এ বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

স্থলসেনা ব্যবহার করলে ওয়াশিংটনের জন্য ওই অঞ্চলের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানিদের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা আমাদের দেখতে হবে। আমরা যদি ইরানকে বোঝাতে পারি যে এটিই চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ এবং মৃত্যু ও ধ্বংস ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো ভালো বিকল্প নেই, যার (বোঝানোর) জোরালো সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আর যদি একটি চুক্তি হয় তা ইরান, পুরো অঞ্চল এবং সর্বোপরি বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক হবে।’

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী ইরানি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া সেই ‘উপহারের’ রহস্য উন্মোচন করেছেন, যার ইঙ্গিত তিনি চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দিয়েছিলেন। তিনি জানান, সেই উপহারটি ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বলেছিল, আমাদের অবস্থান যে দৃঢ় এবং আমরা যে আলোচনায় আন্তরিক, সেটি আপনাকে দেখানোর জন্য আমরা আটটি তেলের জাহাজ ছেড়ে দেব। আমি প্রথমে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা ভাবিনি। পরে খবর দেখতে গিয়ে দেখলাম, একজন ভালো সংবাদ উপস্থাপক, সম্ভবত ফক্স নিউজের—তিনি বলছিলেন, “অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটছে। আটটি জাহাজ প্রণালির ঠিক মাঝখান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে...”। তখন আমি ভাবলাম, তারা (ইরানিরা) ঠিকই বলেছিল।’

গত মঙ্গলবার সকালে ফক্স বিজনেসের একটি অনুষ্ঠানে ওই আটটি জাহাজ চলাচলের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা বর্তমানে জ্বালানি তেলের চড়া দামের সম্মুখীন হচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন পাঁচ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে শুক্রবারও এশিয়ার শেয়ারবাজারের সূচকগুলোতে সামান্য পতন লক্ষ করা গেছে। জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ১০ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও এটি আর্থিক বাজারে অব্যাহত উদ্বেগেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।