
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশে ভোরে ‘বড় ধরনের’ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ওই অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দী করা হয়েছে। তাঁদের দুজনকে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে করা এক মামলায় মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাঁরা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আদালতে বিচারের মুখোমুখি হবেন।
ভেনেজুয়েলায় অভিযান এবং মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা জানা গেল, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
বিচারের মুখোমুখি মাদুরো: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সিনেটর মাইক লি বলেছেন, মাদুরো এখন মার্কিন হেফাজতে আছেন এবং ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্পের ঘোষণা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ভোরবেলার এক ঝটিকা অভিযানের পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রতিক্রিয়া: ভেনেজুয়েলা সরকার এ হামলাকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, ওয়াশিংটন এ কাজের মাধ্যমে পুরো লাতিন আমেরিকাকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্পদ দখলের অভিযোগ: ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, তাদের দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ঘটনার নিন্দা জানানোর আহ্বান করেছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর শুরুর দিকে জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এ অভিযানে যুক্তরাজ্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সবারই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত।
রাশিয়া এ ঘটনা দ্রুত স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরো বেঁচে আছেন কি না, তার প্রমাণ উপস্থাপন করার দাবি জানিয়েছেন।