ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া পূরণ না করলে মাদুরোর মতোই পরিণতি হবে দেলসির: রুবিওর হুঁশিয়ার

লাতিন আমেরিকার জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ওয়াশিংটনের চাওয়া পূরণ করতে বলবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। হুঁশিয়ারি দিয়ে রুবিও বলবেন, চাওয়া পূরণ না হলে তাঁকেও ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে আনা প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আজ বুধবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক-বিষয়ক কমিটির সামনে কথা বলবেন মার্কো রুবিও। তাঁর বক্তব্যের একটি খসড়া এএফপির হাতে এসেছে। সেখানেই দেলসি রদ্রিগেজের প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির কথা উল্লেখ রয়েছে।

‘দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি আগে (ভেনেজুয়েলার) ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট—মাদুরোর পরিণতি সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন’—কমিটিকে এমনটাই বলতে যাচ্ছেন মার্কো রুবিও।

রুবিওর ভাষ্য, ‘আমাদের বিশ্বাস, তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ আমাদের প্রধান লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথার জের টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যোগ করেন, ‘ভুল করবেন না—প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যেমনটি বলেছেন, অন্য সব কৌশল ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগেও প্রস্তুত আছি।’

‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যেমনটি বলেছেন, অন্য সব কৌশল ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগেও প্রস্তুত আছি।
মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রুবিও নিজেও সাবেক সিনেটর। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিযোগ তোলার পর তিনি সিনেট কমিটির সামনে কথা বলতে রাজি হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ছলনা করেছে এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার সীমাহীন ব্যবহার করেছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ৩ জানুয়ারি প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। তাঁদের কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।

বিচারের অপেক্ষায় থাকা মাদুরো দম্পতিকে নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ করেছে। যদিও তাঁরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রস্তুত করা বক্তব্যে কারাকাসে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে দৃঢ় সাফাই গেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কো রুবিও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘দুজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে’। তিনি মাদুরোকে ‘আইনসম্মত রাষ্ট্রপ্রধান নয়, বরং অভিযুক্ত একজন মাদক কারবারি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

‘কোনো মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি কিংবা সামরিক দখলদারত্ব ছাড়াই’ এ অভিযান শেষ করা হয়েছে—যোগ করেন রুবিও। তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই আছে, যেখানে অল্প বিনিয়োগে এত বড় সাফল্য অর্জন করা গেছে।’

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে গিয়ে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি কিউবার নাগরিকও রয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ নিকোলা মাদুরোকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি মাদুরোর সরকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া, দেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।