শরীরে তাঁর হাজারো পতঙ্গের উল্কি

শরীরে উল্কি একে গিনেস ওয়ার্ল্ডে রেকর্ড করেছেন মাইকেল অ্যামোয়া
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাদ আছে, ‘শখের তোলা আশি টাকা’। মানুষের কত কিছুর নিয়েই তো শখ থাকে। বিচিত্র সব শখ পূরণে বিশ্বজুড়ে অনেকেই হয়েছেন আলোচিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক শৌখিন মানুষের খোঁজ মিলেছে, যিনি শরীরে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পোকামাকড়ের ৮৬৪টি উল্কি এঁকে নজর কেড়েছেন সবার। রীতিমতো নিজের শরীরকে যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্মে পরিণত করেছেন নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা মাইকেল অ্যামোয়া। আর এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে সেসব ব্যয় করছেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পেছনে। এ ছাড়া গিনেস ওয়ার্ল্ডে রেকর্ডও গড়েছেন।

১ ফেব্রুয়ারি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ২১ বছর বয়সে শরীরে এই বিচিত্র উল্কি আঁকা শুরু করেন মাইকেল অ্যামোয়া। বর্তমানে তাঁর বয়স ৪৭। প্রথমবার মাইকেল কনুইয়ের পাশে একটি পিঁপড়ার উল্কি (ট্যাটু) আঁকেন। প্রথম প্রথম অনেকেই মনে করতেন তিনি কীটতত্ত্ব পছন্দ করেন কিংবা পোকামাকড়ের উল্কি করতে পছন্দ করেন। তবে এটি আসল ঘটনা নয়। এর পেছনে কিছু কারণ লুকিয়ে ছিল, যার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, মানুষকে  ইতিবাচক একটি বার্তা দেওয়া।

এসব উল্কির মধ্যে গলা ও বুকজুড়ে প্রায় ১৩ ইঞ্চি জায়গায় প্রজাপতির উল্কি। ডান হাতের কনুইয়ের নিচে ৮৯টি পিঁপড়ার উল্কি। বাঁ হাতের কনুইয়ের নিচ থেকে পেশি পর্যন্ত ৩৬টি পিঁপড়ার উল্কি আঁকা হয়েছে। অপর দিকে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ২৩টি লাল পিঁপড়া। এ ছাড়া ডান চোখের ওপরে আড়াই ইঞ্চি জায়গাজুড়ে গুবরেপোকার উল্কি।

অন্যদিকে শরীরের অনেক জায়গাজুড়ে বিচ্ছু, ছারপোকা, মশা-মাছি, মাকড়সা এবং দুটি কেওড়া পোকার উল্কি আঁকা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ ইঞ্চি চওড়া এবং ১৯ ইঞ্চি লম্বা একটি কেওড়া পোকার উল্কি তাঁর বুকে আঁকা হয়েছে। আর পিঠের প্রায় ৫০ ইঞ্চি জায়গাজুড়ে আরেকটি কেওড়া পোকার উল্কি। এসব উল্কি নিয়ে মাইকেল বের হয়ে সবার নজর কেড়েছেন।

মাইকেল অ্যামোয়া বলেন, ‘এসব কাজ দেখে লোকজন আমার কাছে ছুটে এসে এগুলো নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন। আমি তখন ভাবতাম এমনটা হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁরা আমার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার পর বিভিন্নজন নানা মত দিতে শুরু করেন।’

পেশায় একজন সংগীত প্রযোজক মাইকেল অ্যামোয়া। ২২ বছর বয়স থেকেই এই পেশায় কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বড় ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি অ্যানিমেশন, বিনোদন এবং মাইব মিউজিক নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে এসব উল্কি দেখে লোকজন সব সময় মজা করত। এমনকি সবাই বলত যে এসব পাগলামি। কিন্তু ২৬ বছর পর সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছি আমি। বর্তমানের উল্কির মাধ্যমে আমি সচেতনতা তৈরির কাজ করছি, পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহেও এটা বেশ কাজে আসছে।’

উল্কি নিয়ে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ভালো কিছু করতে চান মাইকেল। ইতিমধ্যে ব্রাইট ফিইচার নামের একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন তিনি। ভবিষ্যতে এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিয়ে একটি ডিজিটাল তহবিল গড়তে চান তিনি।