
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইনসভার একটি আসনে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। এই আসনের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাম বিচের মার-এ-লাগো অবস্থিত। রাজ্যের আইনসভার উপনির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি বড় এক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের জয়টি প্রতীকীভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অভিজ্ঞ ও প্রথমবারের মতো প্রার্থী হওয়া এমিলি গ্রেগরি সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট হিসেবে এই উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তিনি এমন একটি আসনে জিতেছেন, যা আগে রিপাবলিকানদের কবজায় ছিল।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোয় দুই ডজনের বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের শুরুর দিকে আরকানসাস এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের জয়ও রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি।
রিপাবলিকান দলের নীতিনির্ধারকেরা এই হারকে স্বাভাবিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। কারণ, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসি এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে তারা বড় জয় পেয়েছিল।
তবে ডেমোক্র্যাটরা এই ফলাফলের মধ্যে ভোটারদের মনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বাড়তে থাকা ক্ষোভ দেখতে পাচ্ছেন, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। গ্রেগরির বিজয় এই প্রবণতাকে খোদ ট্রাম্পের নিজের এলাকায় নিয়ে এসেছে। ফ্লোরিডা এমন একটি রাজ্য, যা একসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকলেও ইদানীং পুরোদমে রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
২০১২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লোরিডায় জয়ী হতে পারেননি। কিন্তু এ বছর ফ্লোরিডাও ডেমোক্র্যাটদের এই জোয়ার থেকে বাদ যায়নি। পাম বিচ থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে অবস্থিত বোকা রাটন শহরে এই মাসের শুরুর দিকে ৪৫ বছরের মধ্যে প্রথম ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে জয়ের ব্যবধান কম ছিল। তবে ৩০ বছরের মধ্যে গত ডিসেম্বরে মিয়ামিতে মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।
গ্রেগরি জয়ী হওয়া পাম বিচ কাউন্টি একসময় ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে সাম্প্রতিক ফেডারেল এবং স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় রিপাবলিকানরা সেখানে বেশ আধিপত্য বিস্তার করেছিল। গ্রেগরি যে ৮৭ নম্বর এলাকা থেকে জয়ী হয়েছেন, সেখানে আগে রিপাবলিকান মাইক কারুসো জিতেছিলেন। ২০২৪ সালে ১৯ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে তিনি জিতেছিলেন।
কারুসোকে গভর্নর রন ডিসান্টিস কাউন্টি ক্লার্ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর আগস্টে তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে মঙ্গলবারের এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প দেশজুড়ে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিরোধিতা করলেও এই মাসের শুরুতে তিনি নিজে এই নির্বাচনে ডাকযোগেই ভোট দিয়েছেন।
৪০ বছর বয়সী গ্রেগরি ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে পছন্দের বিষয় ‘সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা’-কে তাঁর ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয়বস্তু করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিয়েছিলেন। প্রচারে তিনি তিন সন্তানের মা, সেনাসদস্যের স্ত্রী ও ছোট ব্যবসার মালিক হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন।
গ্রেগরির প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৩ বছর বয়সী জন ম্যাপলস ছিলেন আর্থিক ব্যবস্থাপক এবং লেক ক্লার্ক শোরসের সাবেক কাউন্সিল সদস্য। তিনি নিজেকে একজন ‘রক্ষণশীল বহিরাগত’ এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রচার করেছিলেন। কয়েক দিন আগে পাম বিচে রিপাবলিকানদের এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। তখন ম্যাপলসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক একটা অভিযোগ উঠেছিল, তিনি ওই এলাকায় বসবাস করেন না।
প্রতীকী গুরুত্বের বাইরে গ্রেগরির এই বিজয় রাজ্য আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কারণ, সেখানে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবু বছরের শেষ পর্যন্ত তাঁর এই মেয়াদ বেশ ঘটনাবহুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১ জুলাইয়ের সময়সীমার আগে আইনপ্রণেতাদের একটি বাজেট পাস করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ফ্লোরিডার সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে রাজ্যের গভর্নর ডিসান্টিস আগামী এপ্রিলে একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন।
নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ণ দুই বছর মেয়াদের জন্য গ্রেগরি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ম্যাপলসের সঙ্গে তাঁর আবারও লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।