অ্যালেক্স প্রেটি
অ্যালেক্স প্রেটি

মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত কে এই অ্যালেক্স প্রেটি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন (আইসিই, আইস নামে পরিচিত) এজেন্টদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসছে। এসব তথ্যে এমন একজন মানুষের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে, যিনি অন্য মানুষের প্রতি সহমর্মী ও পরিবেশের প্রতি গভীরভাবে যত্নশীল ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানতেন, অ্যালেক্স প্রেটির কাছে বৈধভাবে কেনা একটি বন্দুক আছে। তবে তারা কখনো তাঁকে সেটি নিজের সঙ্গে বহন করতে দেখেননি।

গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সকালে আইসিইর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হন। পরে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে শনাক্ত করেন তাঁর মা–বাবা।

প্রেটির বয়স ৩৭ বছর। তিনি ভেটেরান্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ইনটেনসিভ কেয়ার নার্স হিসেবে কাজ করতেন। এই মাসের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নামে এক নারী নিহত হন। রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন প্রেটি।

অ্যালেক্স প্রেটির বাবা মাইকেল প্রেটি সংবাদ সংস্থা এপিকে বলেন, ‘সে মানুষের প্রতি গভীরভাবে যত্নশীল ও সহমর্মী ছিল। মিনিয়াপোলিস এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আইইসির কারণে যা ঘটছে, তা নিয়ে অন্যান্য লাখো মানুষের মতো সেও খুবই উদ্বিগ্ন ছিল।’

অ্যালেক্স প্রেটি কেন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন সে কথাও জানিয়েছেন তাঁর বাবা। তিনি বলেন, সহমর্মি হওয়ার কারণেই সে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেয়।

তাঁর মা সুসান প্রেটি বলেন, তাঁর ছেলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবেশ নীতি শিথিল করা নিয়ে।

আইসিইর গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটির স্মরণে অনেকে ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান

সুসান আরও বলেন, ‘মানুষ বিনা কারণে ভূ–প্রকৃতি ধ্বংস করছে, এটা সে ঘৃণা করত। সে প্রকৃতিপ্রেমী ছিল... সে এই দেশকে ভালোবাসত তবে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে যা করছে তা ঘৃণা করত।’

অ্যালেক্স প্রেটির বাবা বলেন, ছেলের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের কথা হয়েছে। তখন অ্যালেক্স প্রেটি তাঁদের বলেছিলেন, তিনি জানেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কোনো বোকামি করা যাবে না।

সিবিএস জানিয়েছে, যদিও অ্যালেক্স প্রেটির কাছে গুলির ঘটনার সময় বন্দুক ছিল। তবে সে সময় তিনি বন্দুকটি বের করেছিলেন কিনা তা ‘ইউএস বর্ডার পেট্রোল কর্মকর্তারা’ তা উল্লেখ করেননি। ঘটনার সময় আশেপাশের লোকজন যে ভিডিও করেছেন সেগুলোতেও অ্যালেক্স বন্দুক বের করেছিলেন কিনা, তা বোঝা যাচ্ছে না।

আল জাজিরার খবরে জানা যায়, ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আইসিই–এর সদস্যরা প্রেটি ও অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে মরিচের গুড়া ছুড়ছেন। ওই ভিডিওতে প্রেটিকে তা প্রতিহত করতে ও অন্য বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে দেখা যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আইসিই সদস্য প্রেটিকে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন। এ অবস্থাতেই প্রেটিকে বেশ কয়েকটি গুলি করতে এবং রাস্তায় প্রেটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিনিয়াপোলিস পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, অ্যালেক্সের শরীরে একাধিক গুলির ক্ষত চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মিনিয়াপোলিসেরই বাসিন্দা ও মার্কিন নাগরিক।