এক্সনমবিলের লোগো
এক্সনমবিলের লোগো

ভেনেজুয়েলায় এক্সনমবিলে বিনিয়োগ নিয়ে অনীহার কারণেই কি খেপলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এক্সনমবিলকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করতে বাধা দিতে পারেন। তবে কি ভেনেজুয়েলায় ‘বিনিয়োগের পরিবেশ নেই’ বলে ট্রাম্পের রোষানলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি এক্সনমবিল?

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের বড় বড় কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প।

ওই বৈঠকে এক্সনমবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড্যারেন উডস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছিলেন, বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হতে হলে ভেনেজুয়েলাকে নিজেদের আইন পরিবর্তন করতে হবে।

শুক্রবারের ওই বৈঠকে জ্বালানিশিল্পের অন্তত ১৭ জন নির্বাহী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ট্রাম্প তেল কোম্পানিগুলোর কাছে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার চেয়েছিলেন।

শুক্রবারের ওই বৈঠকে জ্বালানিশিল্পের অন্তত ১৭ জন নির্বাহী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ট্রাম্প তেল কোম্পানিগুলোর কাছে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার চেয়েছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে ট্রাম্প এই বৈঠক করেছিলেন।

বিশ্বে প্রমাণিত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করা নিয়ে উডসের সংশয় প্রকাশ তাই দ্রুত গণমাধ্যমে প্রধান শিরোনামে পরিণত হয়, যা হোয়াইট হাউসের প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস আশা করেছিল, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তেলশিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠক ভেনেজুয়েলা নিয়ে তাদের পরিকল্পনায় গতি আনবে।

হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৯ জানুয়ারি, ২০২৬

গতকাল রোববার ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এক্সনের প্রতিক্রিয়া আমার পছন্দ হয়নি। সম্ভবত আমি এক্সনকে বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নেব। তাদের প্রতিক্রিয়া আমার পছন্দ হয়নি। তারা অতিরিক্ত চালাকি করছে।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর গার্ডিয়ান থেকে এক্সন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি।

এক্সনের প্রতিক্রিয়া আমার পছন্দ হয়নি। সম্ভবত আমি এক্সনকে বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নেব। তাদের প্রতিক্রিয়া আমার পছন্দ হয়নি। তারা অতিরিক্ত চালাকি করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের তিন বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এক্সন, কনোকোফিলিপস ও শেভরন কয়েক দশক ধরে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের সরকার ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় তেলশিল্পকে জাতীয়করণ করে। এরপর শেভরন সমঝোতায় এসে পিডিভিএসএর সঙ্গে অংশীদারত্ব বাঁচিয়ে রাখতে পারলেও কনোকোফিলিপস ও এক্সন দেশটি থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

আদালতের রায় অনুযায়ী, ওই জাতীয়করণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার বর্তমানে কনোকোফিলিপস ও এক্সনের কাছে মোট ১৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি দেনা রয়েছে।

শুক্রবার এক্সনমবিলের সিইও উডস ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘সেখানে দুবার আমাদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তাই আশা করি, আপনি সহজেই বুঝতে পারছেন, তৃতীয়বার সেখানে প্রবেশ করতে হলে অতীতে আমরা যা দেখেছি, তার তুলনায় বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার প্রয়োজন।’

এক্সনের নির্বাহী আরও বলেন, কোম্পানিটির জন্য টেকসই বিনিয়োগ সুরক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা প্রয়োজন; পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার হাইড্রোকার্বন আইনও সংস্কার করা দরকার।