হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম বদলে কেন ‘সমর দপ্তর’ রাখছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে সই করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের (পেন্টাগন) নাম বদলে রাখা হবে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ (সমর দপ্তর)।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। এ পদক্ষেপের ফলে মার্কিন সরকারের সবচেয়ে বড় সংস্থাটির ওপর ট্রাম্পের সরাসরি ছাপ বা প্রভাব পড়বে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ওই আদেশের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, প্রতিরক্ষা দপ্তর ও অধীন কর্মকর্তারা তাঁদের সরকারি চিঠিপত্র ও জনসাধারণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ‘সমরমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার)’, ‘সমর দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার)’ ও ‘সমর উপমন্ত্রী (ডেপুটি সেক্রেটারি অব ওয়ার)’—এ ধরনের পদবি ব্যবহার করতে পারবেন।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে হেগসেথকে আইনি ও নির্বাহী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করতে বলা হবে, যাতে নাম পরিবর্তন স্থায়ী করা যায়।

কোনো সরকারি দপ্তর বা বিভাগের নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে খুবই বিরল ঘটনা এবং তা কংগ্রেসের অনুমোদনসাপেক্ষ বিষয়। তবে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, আর তাঁদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ট্রাম্পের এমন উদ্যোগ ঠেকানোর কোনো আগ্রহ দেখাননি।

দ্বিতীয় মেয়াদে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বিভিন্ন জায়গা ও প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টে দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদল এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর পাল্টানো সেনাঘাঁটিগুলোর পুরোনো নাম পুনর্বহাল করা।

কোনো সরকারি দপ্তর বা বিভাগের নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে খুবই বিরল ঘটনা এবং তা কংগ্রেসের অনুমোদনসাপেক্ষ বিষয়। তবে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, আর তাঁদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ট্রাম্পের এমন উদ্যোগ ঠেকানোর কোনো আগ্রহ দেখাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ছিল ‘ওয়ার ডিপার্টমেন্ট (সমর দপ্তর)’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির কংগ্রেস সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে একীভূত করে। ইতিহাসবিদদের মতে, পারমাণবিক যুগে যুদ্ধ ঠেকানোর লক্ষ্যকে ইঙ্গিত করে এভাবে নাম পাল্টে দেওয়া হয়েছিল।

এ অর্থ (নাম পরিবর্তন বাবদ সম্ভাব্য খরচ) কেন সেনা পরিবারের সহায়তায় ব্যয় করা হবে না? কেন এমন কূটনীতিক নিয়োগে খরচ করা হবে না, যাঁরা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে পারেন?
ট্যামি ডাকওর্থ, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা

আবার নাম পাল্টালে তা ব্যয়বহুল হবে। কেননা ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগন ছাড়াও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির সাইনবোর্ড ও সরকারি কাগজপত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কনফেডারেসি ও এর নেতাদের নামে রাখা ৯টি সেনাঘাঁটির নাম বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এতে সেনাবাহিনীর ৩৯ মিলিয়ন (৩ কোটি ৯০ লাখ) ডলার খরচ হওয়ার কথা ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে হেগসেথ উদ্যোগটি বাতিল করেন।

ফেডারেল সরকারের আকার ছোট রাখতে (খরচ ও জনবল কমানো) ট্রাম্প প্রশাসনের গড়া নতুন বিভাগ ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সি’ পেন্টাগনেরও খরচ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কনফেডারেসি ও এর নেতাদের নামে রাখা ৯টি সেনাঘাঁটির নাম বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এতে সেনাবাহিনীর ৩৯ মিলিয়ন (৩ কোটি ৯০ লাখ) ডলার খরচ হওয়ার কথা ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে হেগসেথ উদ্যোগটি বাতিল করেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ট্যামি ডাকওর্থ এ প্রসঙ্গে রয়টার্সকে বলেন, এ অর্থ কেন সেনা পরিবারের সহায়তায় ব্যয় করা হবে না? কেন এমন কূটনীতিক নিয়োগে খরচ করা হবে না, যাঁরা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে পারেন?

সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ডাকওর্থ আরও বলেন, ‘কারণ, ট্রাম্প সেনাবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা ও সাহসী সেনাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য নয়; বরং রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান।’

আকাশ থেকে তোলা ছবিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্চ ২০২২

দীর্ঘ প্রস্তুতি

সমালোচকেরা বলছেন, নাম পাল্টানোর উদ্যোগ শুধু ব্যয়বহুল নয়, পেন্টাগনের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তিও বয়ে আনবে।

পিট হেগসেথ অবশ্য বলছেন, নাম বদল শুধু শব্দের ব্যাপার নয়; বরং ‘সেনাদের মানসিকতা বা মূল্যবোধের’ বিষয়।

এ বছর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান জেমস কোমার একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এতে প্রেসিডেন্টকে সংস্থা পুনর্গঠন ও নাম বদল সহজ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আমরা এটা করবই। কংগ্রেসের অনুমোদন লাগলে নিশ্চয়ই তারা রাজি হবে। ডিফেন্স নামটা খুবই প্রতিরক্ষামূলক শোনায়। আমরা প্রতিরক্ষামূলক থাকতে চাই, তবে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মকও হতে চাই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা এটা করবই। কংগ্রেসের অনুমোদন লাগলে নিশ্চয়ই তারা রাজি হবে। ডিফেন্স নামটা খুবই প্রতিরক্ষামূলক শোনায়। আমরা প্রতিরক্ষামূলক থাকতে চাই, তবে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মকও হতে চাই।’

নাম বদলানোর সম্ভাবনা বিষয়ে চলতি বছরের জুনেও উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ‘নামটা আগে বদলানো হয়েছিল “রাজনৈতিকভাবে ঠিক” শোনানোর জন্য।’

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এ নতুন চেষ্টা আরও অনেক আগে থেকেই চলছিল।