
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়ার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে গেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আকারের আর দুটি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। গতকাল শুক্রবার মার্কিন এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তার মতে, ফোর্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের আওতাভুক্ত এলাকায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ নামক দুটি বিমানবাহী রণতরিও অন্তর্ভুক্ত।
ফোর্ড ১০ মাসের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে জাহাজটি ক্যারিবীয় সাগরেও মার্কিন অভিযানে অংশ নিয়েছিল। সেখানে মার্কিন বাহিনী কথিত মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ট্যাংকার আটক করেছে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বড় যে অভিযান চালিয়েছে, সেটি হচ্ছে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে কারাকাসের সুরক্ষিত বাসা থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ রণতরিটির লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার ঘর) আগুন লেগেছিল। এতে ২ জন নাবিক আহত হন এবং প্রায় ১০০টি বিছানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া সমুদ্রযাত্রার সময় রণতরিটির শৌচাগারব্যবস্থায়ও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে শৌচাগার জ্যাম হয়ে যাওয়া এবং টয়লেট ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। তবে সংঘাতের এখনো কোনো সমাধান হয়নি। তেহরান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে রেখেছে। বিপরীতে ওয়াশিংটনের বাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে।