
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে (মসজিদ) গুলির ঘটনায় মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী। একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের পাশে একটি গাড়ি থেকে সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। দুজনই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ বিবেচনায় নিয়ে মসজিদে গুলির ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার জোহরের নামাজের আগে গুলির এ ঘটনা ঘটে। সান ডিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় ওই মসজিদের অবস্থান। এটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। ইসলামিক সেন্টারটিতে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে শিশুদের ইসলামি বিদ্যালয়।
গুলির ঘটনার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে সন্দেহভাজন একজন বন্দুকধারীর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর পায় পুলিশ। জানা যায়, বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি অস্ত্র নিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে ১৭ বছর বয়সের ওই সন্দেহভাজন। কিশোরের মা নিজেই পুলিশকে এ খবর জানান।
এরও ঘণ্টা দুয়েকের কিছু বেশি সময় পর সান ডিয়েগোর মসজিদে গুলির ঘটনা ঘটে। মাঝের সময়ে আসলে কী কী ঘটেছিল। কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কী জানিয়েছে, জেনে নেওয়া যাক—
সকাল ৯টা ৪২ মিনিট
পুলিশের কাছে একটি ফোনকল আসে। কলটি করেন একজন মা। তিনি জানান, তাঁর ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের গাড়িটিও নেই। বাড়িতে থাকা কয়েকটি অস্ত্রও খোয়া গেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল এ তথ্য জানান।
পুলিশপ্রধান আরও বলেন, ওই নারী ফোনে জানান, তাঁর ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল। আজ অন্য আরেকজনের সঙ্গে রয়েছে সে। দুজনই ছদ্মবেশ নিয়েছে।
বেলা ১১টা ৪২ পর্যন্ত
ওই মায়ের ফোনকল পাওয়া পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় পুলিশ। ‘বড় পরিসরে’ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলে।
দুজনকে খুঁজে বের করার জন্য গাড়ির লাইসেন্স প্লেট রিডার ব্যবহার করা হয়। সন্দেহভাজনদের একজনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের কারণে স্থানীয় ম্যাডিসন হাইস্কুলে পুলিশ পাঠানো হয়।
বেলা ১১টা ৪৩ মিনিট
পুলিশ জানতে পারে, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে (মসজিদ) বন্দুকধারী ঢুকে পড়েছে।
সবচেয়ে কাছাকাছি জায়গায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন।
বেলা ১১টা ৪৭ মিনিট
এ খবর পাওয়ার মাত্র চার মিনিটের মাথায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় মসজিদের বাইরে তিনজনের মরদেহ পড়ে ছিল। কিন্তু তখনো সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর হদিস পাওয়া যায়নি।
মসজিদ ও এর সংলগ্ন বিদ্যালয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। বন্দুকধারীর খোঁজে পুলিশ প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায়। ভেঙে ফেলা হয় বন্ধ দরজা।
প্রায় একই সময়ে
পুলিশ যখন তল্লাশি চালাচ্ছে, প্রায় একই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্লক দূরে একটি গাড়ি থেকে পথের ধারে দায়িত্বপালনরত এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
পুলিশপ্রধান জানান, গুলিটি ওই ব্যক্তির হেলমেটে লাগে। বেঁচে যান তিনি।
কিছু সময় পর
পথের ধারে ওই ব্যক্তিকে গুলি করার কিছু সময় পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভেতরে দুজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ছিলেন।
পুলিশপ্রধান জানান, ওই গাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় দুজনকে পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, গুলি চালিয়ে ওই দুজন আত্মহত্যা করেছেন।
স্কট ওয়াহল বলেন, ওই নারীর (১৭ বছরের সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মা) কাছ থেকে ফোনকল পাওয়ার পর বাসা থেকে নেওয়া অস্ত্রের সংখ্যা বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা বুঝতে পারছিলেন, ওই কিশোর অন্যের জন্য হুমকি হতে পারে। কেননা, আত্মহত্যাপ্রবণ কোনো ব্যক্তি একসঙ্গে তিনটি অস্ত্র সঙ্গে নেবে না।
মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআই জনসাধারণের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। তথ্য জানানোর জন্য একটি বিশেষ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।