বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অবসরের বয়সসীমা আট বছর বাড়িয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ আইন, ২০১৩-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এ আইন পাস হলে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে যেসব গবেষক রয়েছেন, তাঁদের অবসরের বয়সসীমা ৫৯ থেকে বেড়ে ৬৭ বছর হবে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, গবেষকেরা যেহেতু গবেষণা করে মানুষকে সেবা দিতে বিভিন্ন কাজ করেন, তাই তাঁদের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের বিশেষায়িত জ্ঞান কাজে লাগাতেই তাঁদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৬৭ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ আইন পাস হলে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অনুসন্ধানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে ফেলোশিপ, উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও বিষয়ভিত্তিক প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার এবং তাঁদের কাজ নিয়ে বিজ্ঞান প্রদর্শনী আয়োজনের সুযোগ মিলবে।
সচিব জানান, ১৯৭৮ সালে এক অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করতে ওই অধ্যাদেশ সংশোধন করে একে আইনি কাঠামো দেওয়া হচ্ছে। এতে আইনটি বাংলায় রূপান্তরের পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয়ের নতুন সংজ্ঞাও সংযোজন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। এ ছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে করা হয় ৬৫ বছর।
অন্য গবেষকদের ক্ষেত্রে কী হবে—এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয় এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে এলে তা মন্ত্রিসভা বিবেচনা করবে। যেসব মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠান বা বিজ্ঞানী রয়েছেন, প্রস্তাব এলে ভবিষ্যতে তাঁদের বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুপারিশ তোলা হবে।
এর আগে মে মাসে এ আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, শিক্ষা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, শিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কেও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে সম্পৃক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের কার্যালয় ‘সায়েন্স ল্যাবরেটরি’ নামেই বেশি পরিচিত। তিনটি গবেষণাগার; জ্বালানি, খাদ্য, চামড়া, খনিজ এবং কাচ ও সিরামিক নিয়ে গবেষণার জন্য পাঁচটি ইনস্টিটিউট এবং একটি পাইলট প্ল্যান্ট ও পদ্ধতি উন্নয়নকেন্দ্র নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় সমন্বিত বহু মাধ্যমভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা, ২০১৩-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। এটি কিছু পর্যবেক্ষণসহ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালার আওতায় পরিবহনব্যবস্থাকে সুলভ, নিরাপদ, দক্ষ ও কীভাবে কম খরচে পরিবেশবান্ধব করা যায়, এসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালায় দুর্ঘটনা হ্রাসের চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। সড়কপথের চাপ কমাতে রেল ও নৌপরিবহনের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে তাঁত বোর্ড আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সামরিক শাসনামলে প্রণীত এ আইন ইংরেজিতে ছিল। এখন তা বাংলায় করা হয়েছে। আইনে তেমন কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। আগে এই আইনের অধীনে হ্যান্ডলুম নিয়ে প্রতি মাসে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা দুই মাসে একবার হবে।
বৈঠকে গত ২৫ জুন নাইজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত ট্রেড মিনিস্টার্স কাউন্সিলে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানানো হয়।