ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মারক বক্তৃতা

দেশের বর্তমান বাস্তবতায় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ, জীবন অনুকরণীয়

বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ, জীবন ও শিক্ষা অনুকরণীয়। তাঁর অহিংস আন্দোলন, মানবতাবাদী দর্শন ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক আলোকবর্তিকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত অষ্টম মহাত্মা গান্ধী স্মারক বক্তৃতায় অহিংস আন্দোলনের ওই প্রবক্তাকে এভাবেই স্মরণ করেন বক্তারা। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে রাত্রিকালীন পথসভা করার সময় মহাত্মা গান্ধীকে (মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী) গুলি করে হত্যা করেন হিন্দু মৌলবাদী নাথুরাম গডসে।
উপমহাদেশের প্রয়াত এই রাজনীতিবিদের স্মরণে ‘মহাত্মা গান্ধী: কোয়েস্ট ফর হারমোনি ইন পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি’ শিরোনামের এই বক্তৃতার আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগ। সহযোগিতায় ছিল ভারতীয় হাইকমিশন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনের ধরনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি একবার হরতাল ডাকলেও সহিংসতা ঢুকে পড়ায় এমন কর্মসূচি আর দেননি। কিন্তু আদালত বর্জন থেকে শুরু করে অসহযোগ পর্যন্ত সব ধরনের কর্মসূচি তিনি পালন করেছেন শান্তিপূর্ণভাবে।
স্মারক বক্তা ও এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মহাত্মা গান্ধীর মূল রাজনৈতিক দর্শন ছিল অহিংস আন্দোলন। তিনি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দেশের জন্য তাঁর ত্যাগ ও ভালোবাসা, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম ও সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদ এই মানুষটিকে মহামানবে পরিণত করেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার প্রতীক। তাঁকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি৷ কিন্তু এমন অনেকেই শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, যাঁরা সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার প্রতীক। শান্তি পুরস্কার না পেলেও বিশ্বে শান্তির কথা এলে প্রথমে আসে মহাত্মা গান্ধীর নাম।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন বলেন, মহাত্মা গান্ধী নিজে যেমন সাধারণ মানুষ ছিলেন, তাঁর বার্তাগুলো ছিল তেমনি সহজ। তবে আজকের মতো ওই আমলে ফেসবুক, টুইটার বা মুঠোফোনে এসএমএস (খুদে বার্তা) ছিল না। তিনি রেলের তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে নিজের বার্তা নিজেই প্রচার করেছেন। গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের ধরন ও এখনকার ভারতে তাঁকে কীভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, তা তুলে ধরেন হাইকমিশনার।
পঙ্কজ সরন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এটি বাংলাদেশেরই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সম্প্রতি নয়াদিল্লি গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগে প্রতিবছর তাঁর স্মরণে স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মণ, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের দুই শিক্ষক এম রফিকুল ইসলাম ও তানভীর শাহরিয়ার।
অনুষ্ঠানের শুরু ও শেষ হয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সিনেট ভবনের সামনে থেকে শান্তি শোভাযাত্রা বের হয়। এতে অংশ নেন ভারতীয় হাইকমিশনার, অনুষ্ঠানের বক্তারা এবং শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।