৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ পাচ্ছে গ্রামীণফোন, কী সুবিধা পাবেন গ্রাহক

৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম পাচ্ছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো মোবাইল অপারেটরকে এই লো-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম অকশন কমিটি ও স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে গ্রামীণফোনকে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তরঙ্গ বরাদ্দের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ব্যবহার শুরু হলো, যা দীর্ঘদিন ধরেই দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও সেবার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়ে আসছিল।

নিলামের ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রতি মেগাহার্টজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৩৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে ভিত্তিমূল্যে স্পেকট্রাম বরাদ্দ হওয়ায় ১০ মেগাহার্টজের জন্য সরকার পাবে ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব রাতে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘প্রায় ১৮ বছর ধরে দুর্বৃত্তদের হাতে জিম্মি থাকার পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয় এবং এতে সরকারের ২,৩৭০ কোটি টাকার সুবিশাল রাজস্ব আসছে। সরকারকে এজন্য দুই স্তরের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও লেখেন, এর মধ্য দিয়ে উন্নত মানের কাভারেজ দিয়ে বাংলাদেশে ফোর–জি এবং ফাইভ–জি সেবার বিস্তারের পথ উন্মোচিত হলো।

৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের সুবিধা কী

মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য বলছে, স্পেকট্রাম হলো তড়িৎ–চুম্বকীয় তরঙ্গের বিভিন্ন অংশ, যা দিয়ে মোবাইলে ভয়েস কল, ইন্টারনেট ও অন্যান্য বেতার–সংযোগ পরিচালিত হয়। এর প্রতিটি ব্যান্ডের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

বিস্তৃত এলাকায় উচ্চতর নেটওয়ার্ক কাভারেজের জন্য ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। টেলিযোগাযোগবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তরঙ্গের বিশেষত্ব হলো এটি দেয়াল ভেদ করে ঘরের মধ্যে সিগন্যাল পৌঁছাতে ভূমিকা রাখে এবং এর সাহায্যে কমসংখ্যক টাওয়ার স্থাপন করেই গ্রামাঞ্চল ও মহাসড়ক–সংলগ্ন অঞ্চলে বিস্তৃত কাভারেজ দেওয়া সম্ভব।

জিএসএমএর ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির কারণে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড একক সেলের আওতায় বৃহৎ এলাকা কাভার করতে পারে। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা বিস্তারে এটি অত্যাবশ্যক। এই ব্যান্ড দিয়ে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের তুলনায় কমসংখ্যক বেজ স্টেশন ব্যবহার করে বড় এলাকায় সেবা দেওয়া যায়। এর ফলে অপারেটরের স্থাপনব্যয় কমে এবং গ্রাহকেরা অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ব্রডব্যান্ড সেবা পান।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রযোজ্য সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গ্রামীণফোন ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অধিগ্রহণে যোগ্য জানিয়ে বিটিআরসির একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি। এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের মান আরও উন্নত করতে এবং দেশব্যাপী গ্রাহকদের জন্য সেরা ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।’

তানভীর মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমাদের কাভারেজ আরও সম্প্রসারণে, বিশেষ করে অপর্যাপ্ত সেবাপ্রাপ্ত এলাকা ও ঘরের ভেতরে নেটওয়ার্কের মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে এই স্পেকট্রাম। পাশাপাশি নেটওয়ার্কের দক্ষতা ও স্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।’

আজকের নিলামে একমাত্র অংশগ্রহণকারী ছিল গ্রামীণফোন। একক দরদাতার সম্ভাবনা থাকায় বিটিআরসি চলতি মাসের শুরুতে নিলাম বিধিমালা সংশোধন করে। এতে মোট ২৫ মেগাহার্টজের মধ্যে একক কোনো অপারেটর সর্বোচ্চ ১৫ মেগাহার্টজের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিতে পারবে, এমন সীমা নির্ধারণ করা হয়।

বিটিআরসি বলছে, প্রতিযোগিতা সুরক্ষিত রাখা এবং ভবিষ্যতে অন্য অপারেটরদের জন্য স্পেকট্রাম সংরক্ষণ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।