ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ শনিবার সকালে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক এ বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। প্রতি শনিবার এ অভিযান চলবে।
অভিযানে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য প্রচারপত্র বিতরণের কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী কারও কাছে কোনো প্রচারপত্র দেখা যায়নি। এ বিষয়ে কর্মীরা বলেন, তাঁরা কোনো প্রচারপত্র পাননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ডে এ বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নগরবাসীকে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
সরেজমিনে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের লালমাটি টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় (৫ নম্বর ওয়ার্ড) দেখা যায়, লালমাটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মশা নিধনের যন্ত্রপাতি নিয়ে কর্মীরা একে একে জড়ো হচ্ছেন। সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দলীয় ছবি তুলেন মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। পরে তিনটি দলে ভাগ হয়ে তাঁরা অভিযান শুরু করেন।
একটি দল মিরপুরের আদর্শনগর, আরেকটি দল মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এলাকা এবং অন্য দলটি সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় অভিযান শুরু করেন। আগে থেকেই একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার খালে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দুজন কর্মীকে ম্যালেরিয়া অয়েল-বি মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যায়।
আদর্শনগর এলাকায় থাকা দলটিতে প্রথমে দুজন কর্মীকে ফগার যন্ত্র (উড়ন্ত মশা নিধনে ধোঁয়ার মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো) ব্যবহার করে ধোঁয়া দিতে দেখা যায়। তাঁদের পেছনে ছিলেন আরও দুজন। তাঁরা লার্ভিসাইড (মশার লার্ভা নিধনের ওষুধ) ছিটাচ্ছিলেন। সবশেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কেউ ঝাড়ু দিচ্ছিলেন, কেউ কেউ আবর্জনা ট্রলিতে তুলছিলেন।
মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এলাকায় থাকা দলটিতে মশা নিধনের তিনজন কর্মীকে মশার লার্ভিসাইড ছিটাতে দেখা যায়। তাঁদের পেছনে আরেক কর্মী মশা নিধন ও বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে রেকর্ড করা অডিও বার্তা হ্যান্ডমাইকে বাজাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
অভিযানে থাকা মশক সুপারভাইজার রুবেল হোসেন, পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক সজীব আহমেদ, ভেটেরিনারি কর্মকর্তা সুরাইয়া শারমীন এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব—কারও হাতে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারপত্র দেখা যায়নি।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লালমাটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদমান সাকিবের সঙ্গে। প্রচারপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযানে অবশ্যই প্রচারপত্র থাকার কথা।’ পরে এ বিষয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মশক সুপারভাইজার রুবেল হোসেনকে জিজ্ঞেস করেন তিনি। রুবেল জানান, তাঁরা কোনো প্রচারপত্র হাতে পাননি। পরে সাদমান সাকিব মুঠোফোনে মেহেদী নামের একজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে অঞ্চল অফিস থেকে প্রচারপত্র আনতে নির্দেশনা দেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দলীয় ছবি তোলার পর সচেতনতামূলক বার্তাযুক্ত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডগুলো গুটিয়ে রাখছেন। জিজ্ঞেস করলে জানালেন, একসঙ্গে ওষুধ ছিটানো আর হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করা সম্ভব নয়। তাঁরা জানেন না কর্মকর্তারা কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ কাজের জন্য হয় আলাদা কর্মী নির্ধারণ করতে হবে, নয়তো স্বেচ্ছাসেবক বা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত জরিপে ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিএনসিসি জানিয়েছে, এসব ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫৩টি প্রচারাভিযান (ক্যাম্পেইন) পরিচালনা করা হবে।