
চট্টগ্রামে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুই ‘মাদক ব্যবসায়ীর’ মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হানিফ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে ছিনিয়ে নেওয়া অপর ব্যক্তি মহিউদ্দিন শরীফের হদিস এখনো মেলেনি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার মোহাম্মদ আলী হোসেন আজ বুধবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। হানিফের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই ইয়াসিন হিজড়া। তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে
গত শনিবার নগরের কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা থেকে হানিফ ও মহিউদ্দিনকে পাঁচ হাজার ইয়াবা বড়িসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবর জানার পর তাঁদের অনুসারীরা কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন।
হানিফ ও মহিউদ্দিনকে ফাঁড়িতে আনা হলে তাঁদের অনুসারীরা ইটপাটকেল ও গুলি ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা ওই দুজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। এ হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় আহত নাজমা আক্তার নামের এক নারী ওই দিন রাতে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। পুলিশ জানায়, নাজমার কোমরের ডান পাশে গুলি লেগেছিল। তাঁর সাত ও তিন বছরের দুটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হানিফের বিরুদ্ধে নগরের চান্দগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তাঁর ভাই ইয়াসিনের বিরুদ্ধেও মাদকের মামলা আছে। এ ছাড়া তিনি দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেওয়া মামলারও আসামি।
পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতে একটি মামলা হয়। কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় হানিফ, মহিউদ্দিনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামি করা হয়েছে ২১০ জনকে।
এ ছাড়া ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় হানিফ ও মহিউদ্দিনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।
আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় শনিবার রাতে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল তাঁদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।