শুনানি শেষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হরিদাস চন্দ্রকে। ১০ সেপ্টেম্বর
শুনানি শেষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে  হরিদাস চন্দ্রকে। ১০ সেপ্টেম্বর

ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণা: গাইবান্ধার হরিদাস রিমান্ডে, কারাগারে ওবায়দুল

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি প্রতারণা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পাশাপাশি অপর আসামি ওবায়দুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামি হরিদাসকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড এবং ওবায়দুল ইসলামকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা। বেলা দেড়টার দিকে তাঁদের হাজতখানা থেকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা আদালতের কাছে হরিদাসকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন, আর ওবায়দুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে দুই আসামির আইনজীবীরা এসব আবেদনের বিরোধিতা করেন। আদালত এসব আবেদন নামঞ্জুর করে হরিদাসকে রিমান্ডে ও ওবায়দুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতকে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময়ে হরিদাস প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের নাম ভাঙিয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কাউকে জমি, কাউকে ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এরই নমুনা আজকের এ ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলা। এ মামলার দুই আসামিকে রিমান্ডে নিলে মামলার রহস্য ও সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। হরিদাস অনেকের যোগসাজশে এমন বহু প্রতারণা করেছেন। হরিদাস আরও কী কী প্রতারণা করেছেন, কীভাবে তাঁর অসাধু কার্যক্রম চলছিল—তাঁকে রিমান্ডে নিলে তা বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি আসামি ওবায়দুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার জন্য আবেদন করছি।’

শুনানিতে আসামি হরিদাসের আইনজীবী বাসুদেব গুহ হরিদাসের রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, আসামি হরিদাসের এ মামলায় রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে আসামি ওবায়দুলের আইনজীবী আশিকুর রহমান আদালতকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ মামলার অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই বেআইনি ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার জন্য আসামির রিমান্ড আবেদন বাতিল করে দেওয়া উচিত। তিনি আদালতে নয়াপল্টন ও শাহবাগের মতো (রাজনৈতিক সমাবেশ) বক্তব্য দিচ্ছেন।

শুনানি শেষে ওবায়দুল ইসলামকে কারাগারে নেওয়া হয়। ১০ সেপ্টেম্বর

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আসামিপক্ষের এই আইনজীবী একজন ফ্যাসিস্ট। তাঁর ভাষায় ফ্যাসিস্টের ভাষা আছে। আসামিদের পক্ষে যুক্তি দেখাতে না পেরে তিনি পল্টন, শাহবাগ প্রসঙ্গ টেনে আনছেন রিমান্ড শুনানিতে।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হরিদাস চন্দ্রের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর এবং আসামি ওবায়দুলের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় হরিদাস ও ওবায়দুলকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।

গত ২৪ আগস্ট ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবায়দুল ইসলামের নামে মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে বাদী মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

এর আগে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম একটি মামলাটি করেন। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

আর রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জ–২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।