
বকুল চন্দ্র নাথের বাগানে গোলাপ, এডোনিয়াস, জবা, রুয়েলিয়াসহ নানা জাতের ফুল আছে।
ছাত্রজীবন থেকেই ফুলের প্রতি অন্য রকম টান তাঁর। শিক্ষকতা পেশায় এসেও সেই টানে ছেদ পড়েনি। নিজের বাড়ির আঙিনা ভরিয়ে দিয়েছেন ফুলে ফুলে। বাদ রাখেননি নিজের প্রতিষ্ঠানের আঙিনাও। ঝড়-বৃষ্টিতে ফুল বাগানের ক্ষতি হলেও তিনি নতুন উদ্যমে আবার শুরু করেছেন। তাঁর সংগ্রহে আছে গোলাপ, এডোনিয়াস, জবা, রুয়েলিয়া, কসমস, ডালিয়া, রঙ্গন, সানসেট বেল, সন্ধ্যামালতী, নয়নতারাসহ বিভিন্ন জাতের ফুল।
শুধু নিজের বাড়ি কিংবা প্রতিষ্ঠানে ফুলের গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। ফুলের প্রতি ভালো লাগাকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ফুল পছন্দ করেন এমন পরিচিতজনের মধ্যে ফুলের চারা বিলিয়েছেন। এখন উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষাঙ্গনকে ফুলে ফুলে সাজিয়ে তুলতে। ফুলের হাসিতেই তাঁর ভালো লাগা, যত আনন্দ।
ফুলপ্রেমী এই মানুষটি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ বাগীরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বকুল চন্দ্র নাথ (৫৯)। গত সোমবার উপজেলার ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে তিনি বিভিন্ন জাতের অন্তত ১০টি করে ফুলের চারা দিয়েছেন তিনি। উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে চারা বিতরণের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বকুল চন্দ্র নাথ জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের উত্তর বাগীরপার গ্রামের বাড়িতে তিনি ফুলের গাছ লাগান। যেখান থেকে পেরেছেন ফুলের চারা বা বীজ এনে বাড়িতে লাগিয়েছেন। বাড়ির আঙিনা, খালি জায়গা, ছাদ—সবখানেই তাঁর ছড়ানো-ছিটানো ফুলের হাসি। প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল-বিকেল ফুল গাছে পানি দেওয়া, কীটপতঙ্গসহ রোগের হাত থেকে ফুল গাছ রক্ষায় কাজ করেন।
বকুল চন্দ্র নাথ প্রথম আলোকে বলেন, শুধু বাড়িতেই ফুলের গাছ লাগিয়ে তিনি বসে নেই। কর্মস্থল দক্ষিণ বাগীরপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অঙ্গনকেও ফুলে ফুলে সাজিয়েছেন। তাঁর ফুল বাগানের খবর শুনে অনেকেই দেখতে আসেন। কেউ চারা চাইলে খুশিতেই যাঁর যা পছন্দ, তাঁর হাতে সেই চারা তুলে দেন। এতেই তাঁর আনন্দ। তাঁর বাড়ির বাগানে ছোট-বড় প্রায় ৪০০ ফুলের গাছ আছে।
উপজেলার শালদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি (বকুল) আমার সিনিয়র। তবে খুব কাছ থেকে তাঁকে জানি। একজন ফুলপ্রেমী মানুষ তিনি। তাঁর স্কুলে ও বাড়িতে গিয়েছি। এত এত ফুলের গাছ, সবগুলোর নামও জানি না। এত সুন্দর করে সাজিয়েছেন। খুবই সুন্দর বাগান।’ তিনি বলেন, গত সোমবার তাঁদের সমন্বয় সভা ছিল। সভা শেষে ১৫১টি বিদ্যালয়কে ১০টি করে ফুলের চারা দিয়েছেন তিনি।
বকুল চন্দ্র নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার চাকরি শেষ পর্যায়ে। ভাবলাম অনেক স্কুল আছে, তারা ফুলের চারা পায় না। এই ভাবনা থেকেই স্কুলে চারা বিতরণ করেছি। আমার ইচ্ছা, চাকরি শেষে স্কুলে স্কুলে গিয়ে নিজের হাতে ফুলের চারা লাগিয়ে দিয়ে আসব।’