ছেলেকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. সজীব ও সজীবের মা নূরনাহার বেগম
ছেলেকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. সজীব ও সজীবের মা নূরনাহার বেগম

মাকে মারতে দেখে কাঁদছিল শিশু, দেয়ালে ছুড়ে মেরে হত্যা করলেন বাবা

মাকে মারতে দেখে কেঁদে উঠেছিল দুই বছরের শিশু সামির। মায়ের কাছে ছুটে যায় সে। কোলেও উঠতে চায়। কিন্তু সামিরের বাবা মারধর থামান না। ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে ছেলেকে দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারেন তিনি। গুরুতর আহত সামিরের মৃত্যু হয় হাসপাতালে।

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার বউবাজার ওসি মিয়া সড়কে গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই মৃত্যুর পর শিশু আশরাফ বিন সামিরকে দাফন করা হয়। শিশুটির মা শারমিন আক্তার মারধরের কারণে জ্ঞান হারিয়েছিলেন। সামিরের মৃত্যু ও দাফনের বিষয়ে তিনি জানতেন না। গতকাল বুধবার সকালে ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী মো. সজীবকে (২২) ও শাশুড়ি নূরনাহার বেগমকে (৪০) আসামি করে থানায় মামলা করেন তিনি। পুলিশ জানায়, শিশুর মায়ের করা মামলায় গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে বউ বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে সজীব ও নূর বেগমকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা-পুলিশ।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত শিশুর মা শারমিন আক্তার মঙ্গলবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরলে স্বামী, শাশুড়ির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সজীব শারমিনকে মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁদের দুই বছরের শিশুসন্তান মায়ের কাছে গেলে সজীব তাঁকে মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আঘাত করেন। তাকে ঘরের দেয়ালে ছুড়ে মারলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তার খিঁচুনি শুরু হয়। মা শারমিন সন্তানকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা তাঁকে আবার মারধর করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, শিশুটির মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত বলে প্রচার করে গভীর রাতে দাফন করা হয়। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর শারমিন আক্তার তাঁর স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরকে দায়ী করে থানায় মামলা করেন। গতকাল গভীর রাতে নগরের বউ বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে সজীব ও নূরনাহার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।