
যশোরে বকেয়া তিন মাসের বেতন পরিশোধসহ ১০ দফা দাবিতে চালডাল ডটকমের ৬০০ কর্মী আজ মঙ্গলবারও সকালে কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোনো সমাধান দেয়নি। এ কারণে কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হতাশা বিরাজ করছে।
কর্মীরা জানান, ১০ দফা দাবি সংবলিত একটি পত্র প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছেন তাঁরা; কিন্তু তারা কোনো দাবি আমলে নেননি। উল্টো কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘যারা চাকরি করতে চান না, তাঁরা চাকরি ছেড়ে দেন।’
আকাশ আকবার নামে একজন কর্মী বলেন, ‘আমাদের বলা হচ্ছে, এখন কারও বকেয়া বেতন দেওয়া হবে না। কোম্পানির পরিস্থিতি খারাপ। যাঁরা চাকরি ছেড়ে দিতে চান, তাঁরা রিজাইন করতে পারেন; কিন্তু আমরা আমাদের পারিশ্রমিকের মূল্য চাই। আমরা বকেয়া তিন মাসের বেতন ঈদের আগেই চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চালডাল ডটকম যশোর অফিসের ফোকাল পারসন শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা কর্মীদের ১০ দফা দাবি–সংবলিত পত্র পেয়েছি। তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। সকাল থেকে তাঁরা অফিসেই ছিলেন। আমরা তাঁদের কথা শুনছি। বিষয়টা এখনো সমাধান হয়নি।’
কর্মীদের ১০ দফা দাবির মধ্যে আছে, বকেয়া তিন মাসের বেতন ঈদের আগেই পরিশোধ করতে হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের বেতন ২ মার্চ এবং ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ১৫ মার্চের মধ্যে পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এ ছাড়া ২ মার্চ আন্দোলনের সময় দুজন নারী এজেন্টকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; কোনো এজেন্টকে চাকরিচ্যুত ও অপমান–অপদস্থ করা যাবে না ইত্যাদি।
২০১৯ সালে চালডাল ডটকম যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ১২ ও ১৪ তলার ১২ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ নিয়ে ক্রেতা সেবার জন্য ‘কল সেন্টার’ চালু করে। যশোরের এই অফিসে অন্তত ৬০০ কর্মী কর্মরত। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে কর্মীদের বেতন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বেতনের দাবিতে কর্মীরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
গতকাল বিকেল থেকে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম বন্ধ করে কর্মীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার নোটিশ দেয়। পরবর্তী নির্দেশনা অনলাইন গ্রুপে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ওই নোটিশ দেওয়ার পর থেকে কর্মীরা আরও বিক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পার্কের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে বিক্ষোভকারীরা ফটকটি ভেঙে ফেলেন। এ সময় কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।