
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীকে দায়ী করে বিচার দাবি করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সালমান ওমর। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে নানাভাবে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন উত্তর জেলা বিএনপির এই সদস্য। তবে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল শুক্রবার ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে সালমান ওমরের একটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম (৪০) নামের তাঁর এক সমর্থককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল মধ্যরাতে ধোবাউড়া থানা চত্বরে দেওয়া বক্তব্যে সালমান ওমর বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে বিএনপির প্রার্থী (এমরান সালেহ) ও তাঁর কর্মী সমর্থকেরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিল, নির্বাচন থেকে যেন সরে যাই। তাঁরা শুধু আমার কর্মী-সমর্থককে না, আমাকেও ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। জনগণের অধিকারের কথা চিন্তা করে আমি এখনো নির্বাচন করে যাচ্ছি।’
সালমান ওমর আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার নিরাপত্তার অভাব বারবার লক্ষ করছিলাম। আমার নেতা-কর্মীরাও বলছিল আমার ওপর যেকোনো সময় হামলা হতে পারে, যেন বেশি বেশি লোক নিয়ে চলাচল করি। নজরুল ইসলামকে যে হত্যা হয়েছে, সেটি আমি হতে পারতাম। এই হত্যাকাণ্ড হঠাৎ করে হয়নি, এটি তাঁদের পরিকল্পিত।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ওই জায়গায় থাকলে আমাকে হত্যা করত। আমার কর্মী নিজের রক্ত দিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছে। আমি নজরুল ভাইয়ের পরিবারের সব সদস্যের দায়িত্ব নিয়েছি।’
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর দীর্ঘদিন ধরেই দুই মেরুতে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাউকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। বক্তৃতায় রূপক অর্থে অনেক কথা বলা হয়, সেরকম একটি কথা নিয়ে তারা বলতেছে, তাদের আমরা এলাকায় থাকতে দেব না। তাই যদি হতো তাহলে তো তারা এলাকায় থাকতেই পারত না। তারা তো দলের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে।’
বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘তারা যখন দেখেছে ৮০ শতাংশ রাজনৈতিক লোক আমার দিকে চলে এসেছে, তখনই তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তারাই হুমকি দিচ্ছে। গন্ডগোল লাগানোর জন্য বিভিন্ন ফাঁদ পাততেছে।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করুক। কিন্তু ঘটনার সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে আমার সিনিয়র নেতা-কর্মী ও আমার নাম নিয়ে যেভাবে স্লোগান দিচ্ছে, আমার নেতা-কর্মী নামলে পরিস্থিতি কী হবে? আমি সবাইকে শান্ত রেখেছি।’
প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী লিখিত অভিযোগ না দিলেও বিএনপির প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আসায় ছয়টি শোকজ দেওয়া হলেও সব কটির জবাব পাওয়া যায়নি। প্রার্থীকে মৌখিকভাবেও সতর্ক করা হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য যা দরকার, তাঁরা করছেন।