শেরপুরের ঝিনাইগাতী‌তে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যার প্রতিবাদে জেলা জামায়া‌তের উদ্যো‌গে বিক্ষোভ মি‌ছিল। আজ শুক্রবার বি‌কেলে শহ‌রের ক‌লেজ গেট এলাকায়
শেরপুরের ঝিনাইগাতী‌তে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যার প্রতিবাদে জেলা জামায়া‌তের উদ্যো‌গে বিক্ষোভ মি‌ছিল। আজ শুক্রবার বি‌কেলে শহ‌রের ক‌লেজ গেট এলাকায়

নির্বাচনী সংঘাত

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, এখনো মামলা হয়নি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে জেলা জামায়াতে ইসলামী এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের কলেজ মোড় এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান। সমাবেশে বক্তব্য দেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল এবং শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া।

সমাবেশে বক্তারা রেজাউল হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সমাবেশে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে শেরপুরে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেন, রেজাউল করিমের হত্যার বদলা হিসেবে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। যেকোনো বাধা মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আরও রক্ত দিতে জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী থানায় কোনো মামলা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা জামায়া‌তের আমির হা‌ফিজুর রহমান প্রথম আলো‌কে ব‌লেন, লা‌শের সুরতহাল প্রতিবেদন পে‌তে দে‌রি হওয়ায় মামলা কর‌তে কিছুটা দেরি হ‌য়ে‌ছে। আজ রা‌তেই ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করার প্রস্তু‌তি চল‌ছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। মামলা হলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযানে নামবে। তবে ঘটনাটি ঘিরে সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।