রাজবাড়ী

সেতুর দুই পাশে বালু ফেলে ভরাট

২০১৯ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬ টাকা।

সেতুর দুই পাশে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহের কোনো পথ নেই। সম্প্রতি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর গ্রামে সেতুর দুই পাশে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। মরা পদ্মার পাশে সেখানে ভরাট করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে সেতুর পাশে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে আছে। ভবিষ্যতে সেখানে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কমবেশি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই, শেষ হয় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬ টাকা।

সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর মেছোঘাটা চৌরাস্তার শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে সোজা দক্ষিণে একটি রাস্তা চলে গেছে। কিছু দূর যাওয়ার পর পদ্মা নদীর কোল। রাস্তাটি সেতুর পাশ দিয়ে পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে পশ্চিম দিকে চলে গেছে। অন্যদিকে সেতু হয়ে আরেকটি কাঁচা রাস্তা বড় পদ্মার দিকে চলে গেছে। সেতুর দুই পাশে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বালুর বড় স্তূপ রয়েছে। পাশে একটি খননযন্ত্র। সেখানে বালু বিক্রি করা হয়। সেতুটির দক্ষিণ দিকেও বালু ফেলা হয়েছে। প্রায় ১০০ ফুট যাওয়ার পর কাঁচা রাস্তা ও বসতবাড়ি।

বড়চর বেনীনগর গ্রামের বাসিন্দা ফুলজান বেগম (৭২) বলেন, আগে এখানে একটি বড় সাঁকো ছিল। বর্ষার সময় সবাই সাঁকো পার হয়ে যাতায়াত করত। পদ্মার কোল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। অন্য পাড়ায় যাওয়ার জন্য নৌকা বা সাঁকোই ছিল সবার ভরসা। পরে সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এখন বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ সেতুর তুলনায় পদ্মার কোল ছিল বেশ বড়। বন্যার দুর্ভোগ কমাতে আমরা পাউবোর কাছে সেখানে বালু ফেলতে আবেদন করেছিলাম, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধা হয়। কিন্তু সেতুর পাশ দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করায় সেটি আর কাজে আসছে না।’

সদর উপজেলার পিআইও এস এম মনোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি ছিল। জনপ্রতিনিধিদের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়ম মেনে সেখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছিলেন। সেতু নির্মাণের পর সেতুর পাশ দিয়ে বালু ফেলা হয়েছে।

শুনেছি, পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে বালু ফেলেছে।’ পাউবোর রাজবাড়ী কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি উদ্ধারের জন্য মরা পদ্মায় বালু ফেলা হয়েছিল। সেখানে সেতু থাকতে পারে। কারণ, সেতু তৈরি করা হলেও তা যথাযথভাবে কাজে আসছিল না।